
শেষ আপডেট: 26 August 2024 19:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে একের পর এক পুজো কমিটি অনুদান প্রত্যাখ্যান করছে।
উত্তরপাড়ার তিনটি, কোন্নগরের একটি কমিটি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে তাঁরা পুজো অনুদান গ্রহণ করবে না। এমন আবহে এবার পুজো অনুদান নিতে ইচ্ছুকদের জমায়েতের ডাক দিলেন কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস।
হোয়াটসঅ্যাপে কোন্নগরের সব পুজো কমিটিকে বার্তা পাঠিয়েছেন চেয়ারম্যান। লিখেছেন, 'যারা পুজোর সরকারি অনুদান ৮৫ হাজার টাকা নিতে ইচ্ছুক সেই সব ক্লাব মঙ্গলবার সন্ধে সাড়ে ছটায় পুজো কমিটির ব্যানার পোস্টার নিয়ে চলচ্চিত্রম মোড়ে জমায়েত করুন।'
পুরসভার চেয়ারম্যানের এমন বার্তায় রাজনৈতিক টানাপড়েন জোরালো হল। বিজেপি নেতা প্রণয় রায়ের অভিযোগ,স্বপন দাস যে আহ্বান করেছেন এটা থেকে পরিষ্কার যে তারা রাজনীতি করার জন্যই এই অনুদান দিচ্ছেন।আজকে উত্তরপাড়া যে পথ দেখিয়েছে কোন্নগরের মাস্টার পাড়াও পুজোর অনুদান প্রত্যাখ্যান করেছে। রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় পুজো কমিটি আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছে এভাবে। মুখ্যমন্ত্রীও বলেছেন উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আর জাস্টিসের জন্য যারা অনুদান ফিরিয়ে দিচ্ছেন তাদের পাল্টা মিছিল করছে তৃণমূল।"
কোন্নগর মাস্টারপাড়া পুজো কমিটির ক্যাশিয়ার স্বপন মুখোপাধ্যায় বলেন, "চেয়ারম্যান যে মেসেজ করেছেন হোয়াটসঅ্যাপে সেটা আমাদের কাছেও এসেছে। এর অর্থ হল যারা অনুদান বয়কট করছে তাদের চাপে রাখা। ওঁরা হয়তো চাইছেন অনুদান যারা নিতে চায় তাদেরকে ডেকে যদি বলিয়ে নেওয়া যায় যে তারা অনুদান নেবে তাহলে পরে আর তারা অনিচ্ছুক হতে পারবে না। আমাদের পুজো কমিটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা কোনও জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই, বলিনি। পুজো কমিটির সঙ্গে সব ধরনের মানুষ থাকেন। আমাদের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৃণমূলের। পুজো কমিটির অনেকেই তাঁকে ভোট দিয়েছেন।"
কোন্নগর দেবপাড়া সর্বজনীনের সম্পাদক সায়ন্তন মিত্র বলেন, "চেয়ারম্যানের আহ্বান আমাদের কাছেও এসেছে।আমাদের পুজো খুবই ছোট। সরকারি অনুদান আমাদের খুবই কাজে লাগে। কিন্তু কী কারণে মিছিল বা কেন যেতে হবে সেই বিষয়টা আমরা জানি না। এই মিছিলটা কি আরজি করের জাস্টিসের জন্য হচ্ছে নাকি অন্য কোনও কারণ আছে সেটাও জানি না।"
কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন,"একটা মিথ্যা প্রচার চলছে যে গোটা কোন্নগরের সব পুজো কমিটি নাকি অনুদান প্রত্যাখ্যান করছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের এই জমায়েত। যাঁরা আসবেন তাঁরা অনুদান পাবেন। যাঁরা আসবেন না, তাঁরাও পাবেন। কিন্তু কারা বয়কট করছে না সেটাই আমরা দেখে নিতে চাইছি। আমি চেয়ারম্যান বা দলের লোক হিসেবে এই আহ্বান করিনি। দুর্গোৎসব আমাদের বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। সেটাকে নিয়ে এভাবে মিথ্যা প্রচার করতে দেওয়া যায় না। কোন্নগরের কোন ক্লাব অনুদান নেবে না সেটাও প্রমাণ হয়ে যাবে এই জমায়েতে।"