শুক্রবার রাতের মধ্যেই কেস ডায়েরি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। সূত্রের খবর, রাতেই দায়িত্ব বুঝে নিয়ে মাঠে নামবেন সিআইডি আধিকারিকরা।

শেষ আপডেট: 27 February 2026 20:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ার হাওড়ার পিলখানায় ২৭ বছরের প্রোমোটার সফিক খানের খুনকাণ্ডে (Howrah promoter murder case update) বড় মোড়। দু'দিন কেটে গেলেও কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় তদন্তভার শেষমেশ গেল সিআইডির কাছে (Howrah promoter murder CID probe)। আজ, শুক্রবার রাতের মধ্যেই কেস ডায়েরি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া (CID takeover case diary Howrah promoter murder) সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। সূত্রের খবর, রাতেই দায়িত্ব বুঝে নিয়ে মাঠে নামবেন সিআইডি আধিকারিকরা।
সফিক খানের পরিবারের দাবি মেনেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁরা হাওড়া সিটি পুলিশের (Howrah city police investigation) উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে সিআইডি তদন্তের আবেদন জানান। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয় সিআইডি (Criminal Investigation Department)-কে। সেই মতোই শুরু হচ্ছে নতুন পর্যায়ের তদন্ত।
এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল অভিযুক্ত
সিসিটিভি ফুটেজ মিললেও মূল অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত এখনও অধরা। চারটি বিশেষ দল গঠন করে তল্লাশি চালাচ্ছিল হাওড়া সিটি পুলিশ (Howrah City Police)। একটি দল ভিনরাজ্যেও গিয়েছে বলে খবর। কিন্তু তার মাঝেই পরিবারের পক্ষ থেকে সিআইডি তদন্তের জোরালো দাবি ওঠে।
‘ভাঙা বালতি চক্র’ ঘিরেই কি খুন?
তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হারুন ও সফিকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছিল। সম্প্রতি একটি অনলাইন প্রতারণা চক্রকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে।
হাওড়ার দুষ্কৃতী মহলে ‘ভাঙা বালতি চক্র’ নামে পরিচিত এই প্রতারণা র্যাকেট অর্ধেক দামে ব্র্যান্ডেড পোশাক দেওয়ার লোভ দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করত। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে মৃতের ও অভিযুক্ত হারুনের ঘনিষ্ঠদের যোগাযোগ ছিল।
গোয়েন্দাদের দাবি, কয়েকদিন আগে এই চক্রের ফাঁদে পড়ে হারুনের দলের এক সদস্য প্রায় ২ লক্ষ টাকা হারায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই হারুন ওই চক্রের পাণ্ডাকে হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করে। অপমানিত প্রতারক পরে সফিকের কাছে অভিযোগ জানায় যে হারুন তাকে শাসাচ্ছে।
সফিক ফোনে হারুনকে ওই বিষয় থেকে দূরে থাকতে বলেন। সেখান থেকেই দুই পক্ষের সম্পর্কে ফাটল চওড়া হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, ‘ভাঙা বালতি চক্র’কে ঘিরে সেই ২ লক্ষ টাকা নিয়েই চাপানউতোর চলছিল। পুলিশের অনুমান, সেই আর্থিক দ্বন্দ্বের জেরেই খুন হতে হয়েছে শফিককে।
তদন্তে নতুন দিশা?
এখন দেখার, সিআইডির হাতে তদন্ত গেলে মূল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হয় কি না। সফিক খানের পরিবারের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়া হোক। হাওড়ার এই হাড়হিম খুনকাণ্ডে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপও ক্রমশই বাড়ছে।