
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 January 2025 12:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৌষ মাসে নতুন ধান কাটার পর, তার থেকে চাল বের করা। নতুন শস্য ঘরের তোলার আনন্দকেই বহু যুগ ধরে গ্রাম বাংলার মানুষ উৎসব হিসেবে পালন করেন। যার নাম পৌষ পার্বণ। আর এই উৎসব মানেই পিঠে, পুলি। অতীতে পৌষ বা অগ্রহায়ণ মাস পড়লেই গ্রাম বাংলার আনাচে-কানাচে বাড়িতে বাড়িতে শুনতে পাওয়া যেত ঢেঁকিতে চাল কোটার শব্দ। কিন্তু যদিও, সেই সব আজ অতীত। ব্যস্ত সময়ে মানুষের হাতে সময়ের অভাব। তবে, হাওড়ার পাঁচলা ব্লকের রায়পাড়ায় এখনও ঢেঁকির শব্দ পাওয়া যায় পৌষ পার্বণের সময়।
অগ্রহায়ণ মাসে রায়পাড়ার বাসিন্দা সৌমেন রায়ের বাড়ি থেকে ঢেঁকির শব্দ পাওয়া যায়। কারণ, এখানে শুধু এই একটি বাড়িতেই রয়েছে ঢেঁকি। যেখানে রায়পাড়া তো বটেই, আশেপাশের গ্রামের লোকজনও চাল নিয়ে আসেন ভাঙানোর জন্য। পৌষ পার্বণে ঢেঁকিতে ভাঙা সেই চাল দিয়েই তাঁরা তৈরি করেন পিঠে, পুলি ও পায়েস।
জানা গেছে, এক সময়ে ৫০ পয়সা ঢেঁকির ভাড়া নেওয়া হত। পরে সেটা বেড়ে ৩ টাকাও হয়েছিল। কিন্তু এখন আর তাঁরা ঢেঁকির ভাড়া নেন না। প্রতিবেশীরা এসে এই ঢেঁকিতেই চাল বিনা ভাড়ায় ভাঙিয়ে নিয়ে যান। তাই মেশিন এলেও ঢেঁকিকেই স্মৃতি হিসাবে আঁকড়ে রেখেছেন সৌমেনবাবু।
ঢেঁকির মালিক সৌমেন রায় বলেন, "ছোটবেলা থেকে বাড়িতে এই ঢেঁকি দেখে আসছি। সেই সময়ও আমাদের গ্রামের লোকজন আসত ঢেঁকিতে চাল গুঁড়ো করতে। তখন ঢেঁকি ভাড়াও দেওয়া হতো। চার আনা, পঞ্চাশ পয়সাতেও ঢেঁকি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এখন তিন টাকায় ভাড়া দিই। এই এলাকায় শুধুমাত্র আমাদের বাড়িতেই ঢেঁকি রয়েছে।"
দুপুর হলেই পাড়া প্রতিবেশীরা চলে আসেন চাল ভাঙাতে। তাঁদের সাহায্য করেন সৌমেনবাবুর স্ত্রী অঙ্কিতা রায়। তাঁর দাবি, তিনি গ্রামের মেয়ে। কিন্তু বাপের বাড়িতে ঢেঁকি দেখেননি। বিয়ে পর শ্বশুরবাড়িতে এসে ঢেঁকি দেখে তিনি বেশ মজা পেয়েছিলেন। শাশুড়ির কাছে চাল ভাঙানো শিখেছেন। তিনি আরও বলেন, অগ্রহায়ণ মাসের শেষ থেকেই লোকজন আসতে শুরু করেন। বাইরে থেকেও লোকজন আসেন, চাল ভাঙিয়ে নিয়ে যান।