
তৃণমুলের বিবাদে খানাকুলে ধুন্ধুমার
শেষ আপডেট: 15 July 2024 15:38
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: খানাকুল ১ পঞ্চায়েত সমিতির মহিলা সভাপতির মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। পঞ্চায়েত সমিতির বেশ কয়েকজন সদস্যকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। তৃণমুলের দুই শিবিরের জমায়েত থেকে উত্তেজনা ছড়ায় খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতির অফিসের বাইরে। জমায়েত হঠাতে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে বোর্ডগঠন করেছিল তৃণমুল। সেখানেই পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নইমুল হক ওরফে রাঙা গোষ্ঠীর সঙ্গে খানাকুল ১ ব্লক তৃণমুল সভাপতি দীপেন মাইতির গোষ্ঠীর বিবাদ শুরু হয়। দীপেন অনুগামী বেশ কয়েকজন কর্মাধ্যক্ষ ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শম্পা মাইতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এতে পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী কমিটি ভেঙে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে স্থায়ী কমিটি টিকিয়ে রেখে পঞ্চায়েত সমিতিতে নিজের একাধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া নইমুল হক ওরফে রাঙা। তাই এদিন খানাকুল ১ পঞ্চায়েত সমিতির মিটিং হলে একটি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে তীব্র বাদানুবাদ হয়। বেধে যায় সংঘর্ষ। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শম্পা মাইতির মাথা ফাটে। এদিকে পঞ্চায়েত সমিতির বাইরে দুই গোষ্ঠীর কয়েকশো লোক জমায়েত হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পঞ্চায়েত সমিতির অফিস চত্বরে বিশাল পুলিশবাহিনী ও র্যাফ মোতায়েন করা হয়। বারবার উত্তেজনা সামাল দিতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে।
মিটিং থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এক সদস্য তাপস ঘোষ কাঁদতে কাঁদতে বলেন,"পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ম্যাডামকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাকেও মারধর করা হয়। পনেরো বছর ধরে করে খাচ্ছে। তোলা তুলছে।"
এদিন বৈঠকে কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে বাইরেই ছিল ব্যাপক উত্তেজনা। সামাল দিতে হুগলি গ্রামীণ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশসুপার কৃশানু রায়, আরামবাগ এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী, আরামবাগ থানার আই সি রাকেশ সিং বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি রামেন্দু সিংহরায় কে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। চেয়ারম্যান স্বপন নন্দীও উত্তর দেননি। আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি বিমান ঘোষ বলেন,"খানাকুলে তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব নতুন নয়। ভাগ নিয়ে গন্ডোগোল। আগামী নির্বাচনে ওরা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে।"