এদিন সকাল সাতটা নাগাদ তিনটি গাড়িতে করে ইডির পাঁচজন তদন্তকারী আধিকারিক এবং তাঁদের সঙ্গে ছয়জন সিআইএসএফ জওয়ান ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন।

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 17 December 2025 12:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাতসকালেই রিষড়ায় (Rishra) এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। রিষড়া পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ১৭ নম্বর লক্ষ্মী পল্লী, থার্ড লেনে ‘শ্যাম পানা কুঞ্জ’ নামে একটি আবাসনে তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা।
ওই বাড়ির বাসিন্দা কৈলাশ কুমার ভার্মা। সূত্রের খবর, তাঁকে হুন্ডি কারবারের (illegal money transfer) সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কৈলাশ কুমার ভার্মার দুই ছেলে রয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
এদিন সকাল সাতটা নাগাদ তিনটি গাড়িতে করে ইডির পাঁচজন তদন্তকারী আধিকারিক এবং তাঁদের সঙ্গে ছয়জন সিআইএসএফ জওয়ান ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। বাড়িতে ঢোকার পর থেকেই শুরু হয় তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব। দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি চলার খবর মিলেছে।
সূত্রের দাবি, হুন্ডির মাধ্যমে অবৈধ আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তেই এই অভিযান চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কী পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে, সেই টাকা কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় পাঠানো হয়েছে - এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, ওই পরিবারের সদস্যরা সাধারণত আত্মকেন্দ্রিক স্বভাবের। পাড়ার সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা নেই। মাঝেমধ্যে চায়ের দোকানে দেখা গেলেও, কারও সঙ্গে বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ছিল না বলে দাবি তাঁদের। তবে দীর্ঘদিন ধরেই রিষড়ার লক্ষ্মী পল্লী এলাকায় বসবাস করছেন ওই পরিবার।
ইডির এই অভিযানের জেরে সকাল থেকেই এলাকায় কৌতূহল ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। তদন্ত এখনও চলছে।
ঘুষ-দুর্নীতি, কর ফাঁকি, চোরাচালান-সহ নানা অবৈধ উপায়ে উপার্জিত বিপুল অঙ্কের টাকা বিদেশে পাচারের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম হয়ে উঠেছে অবৈধ হুন্ডি। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে কার্যত ফাঁকি দিয়ে সীমান্তের বাইরে কালো টাকা পাঠানোর এই চক্র দিন দিন আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে।
আইন অনুযায়ী, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই অবৈধ ব্যবস্থার চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার নজর এড়িয়ে দ্রুত এবং ঝুঁকিহীন ভাবে টাকা বিদেশে পাঠানোর সুযোগ থাকায় অনেকেই হুন্ডির পথ বেছে নিচ্ছেন।