
শেষ আপডেট: 21 November 2024 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদের জেরে শাশুড়ি ও শ্যালিকাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল জামাইয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় বলাগড় থানার জিরাট কলেজ মাঠ সংলগ্ন এলাকায়। আহত শাশুড়িকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আট বছর আগে সীমা বাড়ুইয়ের বিয়ে হয় জিরাটের অসিত হালদারের সঙ্গে। তাদের একটি পুত্র সন্তান আছে। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। সীমার দাবি, তাকে অত্যাচার করা হত শ্বশুরবাড়িতে।
এরপর দুজনের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। যদিও আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। সীমা হুগলিতে একটি জায়গায় কাজ করেন এবং সেখানেই থাকেন।
বুধবার সকালে অসিত তার শ্বশুরবাড়িতে যায়। শাশুড়ির সঙ্গে অশান্তি শুরু করে। অভিযোগ, সীমার ছোট বোন ঘর থেকে বেরিয়ে আসতেই প্রথমে তাকে কাঠ ছোলার বাটালি দিয়ে আঘাত করে অসিত। মেয়েকে বাঁচাতে মা ছুটে এলে অসিত শাশুড়ির উপর ঝাঁপিয়ে পরে তার পিঠে বাটালি বসিয়ে দেয়। তারপর সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন শাশুড়ি বিথিকা বাড়ুই। তাঁদের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন পড়শিরা। আহত দুজনকে জিরাট আহম্মদপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিথীকাকে চুঁচুড়া হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
সীমার ভাই অসীম বাড়ুই বলেন, "জামাইবাবুর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। তাও আজকে আমাদের বাড়িতে এসে মাকে গালিগালাজ শুরু করে। প্রতিবাদ করলে আমার বোন সমাপ্তিকে মারে তারপর মাকে বাটালি দিয়ে আঘাত করে। আমি সে সময় বাড়িতে ছিলাম না কলেজে গিয়েছিলাম।" সীমা বলেন, "বিয়ের পর থেকে আমার উপর অত্যাচার করত। তাই আমি আলাদা থাকি। বাড়িতে গিয়ে মাকে মেরেছে বোনকে মেরেছে। ওর শাস্তি চাই।"
হুগলি গ্রামীণ পুলিশের ডিএসপি ক্রাইম অভিজিৎ সিনহা মহাপাত্র জানান, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ রয়েছে। তার জেরে এই ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।