
শুভেন্দু অধিকারীর 'ছায়া' সরাতে সিঙ্গুরে কালো বেলুন
শেষ আপডেট: 19 October 2024 14:18
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: কালো বেলুন উড়িয়ে সিঙ্গুরে শুভেন্দু অধিকারীর 'ছায়া' সরাল সিঙ্গুর কৃষি জমি রক্ষা কমিটি। গোবর গঙ্গাজল দিয়ে ধুয়ে শুদ্ধ করা হল শুভেন্দুর সভাস্থল। আর এই কর্মসূচি থেকে আহ্বান করা হল টাটাদের গাড়ি তৈরির কারখানার জমিতে আগে থেকে যে সব কারখানা ছিল সেগুলি পুনঃপ্রতিষ্ঠার।
শুক্রবার সিঙ্গুরের গোপালনগর সাহানাপাড়ায় মৌন মিছিল ও সভা করেন বিরোধী দলনেতা। রতন টাটাকে শ্রদ্ধা জানাতে এই কর্মসূচী নিয়েছিল বিজেপি। সেই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে শুভেন্দু বলেন, "সিঙ্গুরের সর্বনাশ করে দিয়েছে। এই জমিতে না হয়েছে কৃষি না হয়েছে শিল্প।" সিঙ্গুরের বিধায়ক তথা কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্নার উদ্দেশ্যে বলেন, "কোটি কোটি টাকা করেছে। পকেটে পুলিশ নিয়ে ঘোরে। পুলিশ সরে গেলে মানুষ পিঠের চামড়া তুলে নেবে।" এও বলেন, "বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে টাটাকে হাতে পায়ে ধরে নিয়ে আসব। শিল্প ছাড়া কর্মসংস্থান রাজস্ব বৃদ্ধি হবে না।"
শনিবার শুভেন্দুর সেই সভাস্থল গোবর গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করল সিঙ্গুর কৃষি জমি রক্ষা কমিটি। কালো বেলুন উড়িয়ে কালো ছায়া তাড়ানো হয়। জমি আন্দোলনের নেতা অমিয় ধারা বলেন, "চাষিরা তাঁদের জমি চাষ করছেন। যে সব জমি অনাবাদি সেই জমিতে শিল্প আগে থেকেই ছিল। টাটারা যখন জমি নেয় তখন সেই সব জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। পরে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সব শিল্প যদি আবার হয় তাহলে কৃষি জমি রক্ষা কমিটি এবং আমার দল তাদের সাহায্য করবে।"
গতকাল বেচারাম মান্না তালিকা দিয়ে জানিয়েছিলেন দুর্গাপুর এক্সপ্রেস হাইওয়ের পাশে যে জমি পরে রয়েছে, সেখানে চাষ হয় না। সেগুলো কারখানা,পেট্রোল পাম্প হোটেলের জমি ছিল। সেই জমি মালিকরা ফিরে পেয়েছেন। সেই জমির পরিমাণ কয়েকশো বিঘা। শনিবার সিঙ্গুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি আনন্দমোহন ঘোষ বলেন, "যে জমিতে কাশফুল ফুটে আছে সেই জমি ছাড়া ভিতরের সব জমিতেই চাষ হয়। শুভেন্দু অধিকারী রাজনীতির কারবারি, তাই রাজনীতি করতে এসেছেন।"
সিঙ্গুরের হাজার একর জমি টাটাদের ন্যানো কারখানার জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। পরে ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই জমি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফিরিয়ে দেওয়ার পর অধিকাংশ জমিতেই অবশ্য আর চাষ হয় না। তৎকালীন সিঙ্গুর কৃষি জমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই চাইছেন সিঙ্গুরের সেই জমিতে এখন শিল্প হোক। ইতিমধ্যে তাঁরা একটি নতুন কমিটি তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদনও করেছেন।