
ব্যন্ডেলের স্কুলে উদ্ধার হওয়া বিষ্ণুমূর্তি
শেষ আপডেট: 22 January 2025 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: গত ১৭ জানুয়ারি সাইকেল স্ট্যান্ড বানানোর জন্য মাটি খোঁড়া হচ্ছিল ব্যান্ডেলের বিক্রমনগর হরনাথ নীরদা সুন্দরী ঘোষ উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেই মাটি জড়ো করা হচ্ছিল মাঠের এক পাশে। সেই মাটির স্তূপেই খোঁজ মিলল মহা মূল্যবান একটি বিষ্ণুমূর্তির। খবর পেয়ে পেয়ে স্কুলে আসেন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞরা। এই মূর্তির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম বলে জানালেন তাঁরা।
ক্লাস নাইনের দুই ছাত্রী জ্যোতি মণ্ডল ও মোহিনী সরকার দাঁড়িয়ে গল্প করার সময় মূর্তিটি দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে মূর্তিটি তুলে তাঁরা স্কুলের ভূগোলের শিক্ষিকা সঙ্ঘমিত্রা পালিত ও ইংরেজি শিক্ষিকা করুণা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে নিয়ে যায়। শিক্ষিকারা বুঝতে পারেন এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈকত দাসকে জানান। স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক বিশ্বরূপ দে পুরাতত্ত্ব নিয়ে চর্চা করেন। এই মূর্তি গুপ্ত যুগের হতে পারে বলে অনুমান করেন তিনি।
প্রধানশিক্ষক সৈকত দাস বলেন, "আমরা ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ছবি পাঠাই। তাঁরা দেখে জানান, এর ঐতিহাসিক মূল্য অনেক। খুব গোপনীয়তার সঙ্গে একে রক্ষা করতে হবে।" এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ আর মূর্তিটি স্কুল বাড়িতে রাখার ঝুঁকি নিতে পারেননি। এর আগে দু-দুবার চুরি হওয়ায় মূর্তি সেফ ভল্টে রাখা হয়।
সোমবার ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের কলকাতা দফতর থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট ডঃ সঞ্জয় পন্ডা ও প্রদীপ কর হরনাথ স্কুলে আসেন। মূর্তিটি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন তাঁরা। যে জায়গা থেকে মূর্তি উদ্ধার হয়েছে সেই জায়গা ঘুরে দেখেন।
পরে আর্কিওলজিস্ট ডঃ সঞ্জয় পন্ডা বলেন, "এটা প্রায় হাজার বছর আগের মূর্তি হতে পারে। দাঁড়িয়ে থাকা বিষ্ণুর মূর্তি। গঙ্গার গতিপথে এরকম অনেক মূর্তি উত্তর ২৪ পরগনাতে পাওয়া গেছে। এই মূর্তিটি নিয়ে গিয়ে মিলিয়ে দেখা হবে।গবেষণা করা হবে। তারপরেই মূর্তির সঠিক সময়কাল জানা যাবে।"
স্কুল প্রাঙ্গনে মাটি খুঁড়ে এমন প্রাচীন মূর্তি উদ্ধারের ঘটনায় শুধু হরনাথ স্কুলই নয়, শোরগোল পড়েছে গোটা এলাকায়।