স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভ্যাট থেকে সারাক্ষণ তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়। সেই দুর্গন্ধ রাস্তাঘাট পেরিয়ে বাড়ির ভেতর পর্যন্ত ঢুকে পড়ছে। দরজা-জানলা বন্ধ করেও কোনও লাভ হচ্ছে না। বিশেষ করে গরমের দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বলেও অনেকেই অভিযোগ করেছেন। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।
_0.jpg.webp)
বি গার্ডেনের জেরে মুখ পুড়ছে কলকাতার
শেষ আপডেট: 30 December 2025 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ হাওড়ার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের একেবারে পাশেই রয়েছে একটি বড় আবর্জনার ভ্যাট। এই ভ্যাটেই গোটা ওয়ার্ডের ময়লা দীর্ঘদিন ধরে এসে জমা হচ্ছে। ভ্যাটের দুর্গন্ধে এখন নাজেহাল গোটা এলাকা। দেশের অন্যতম পরিচিত বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশে এমন আবর্জনার স্তূপ থাকায় শহরের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভ্যাট থেকে সারাক্ষণ তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়। সেই দুর্গন্ধ রাস্তাঘাট পেরিয়ে বাড়ির ভেতর পর্যন্ত ঢুকে পড়ছে। দরজা-জানলা বন্ধ করেও কোনও লাভ হচ্ছে না। বিশেষ করে গরমের দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বলেও অনেকেই অভিযোগ করেছেন। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবর্জনার ভ্যাটের কারণে এলাকায় মশা, মাছি ও ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে। এতে নানা রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চারপাশ নোংরা হয়ে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, এলাকার বাসিন্দারা বহুবার পুরসভা ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান পাননি। বারবার জানানো সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি বলেই দাবি তাঁদের।
শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন একটি পরিচিত পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন বহু মানুষ সেখানে ঘুরতে আসেন। কিন্তু গার্ডেনের পাশেই আবর্জনার ভ্যাট থাকায় বাইরে থেকে আসা মানুষজনের কাছেও এলাকার খারাপ ছবি পৌঁছে যাচ্ছে। বাসিন্দাদের মতে, এর ফলে কলকাতা ও হাওড়া শহরের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
এই সমস্যা নিয়ে ‘দ্য ওয়াল’-এর তরফে কথা বলা হলে ওই ওয়ার্ডের বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরী জানান, বিষয়টি তাঁর জানা আছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
অন্যদিকে, ওই ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সবিতা সাঁতরা জানান, দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তিনি এই ভ্যাট নিয়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এখনও তিনি বিষয়টি নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
তবে শুধুমাত্র আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন এলাকার মানুষ। দ্রুত ভ্যাট সরানো বা আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। সমস্যা না মিটলে বড় আন্দোলনের পথে যাওয়ার কথাও ভাবছেন বাসিন্দারা।