
শেষ আপডেট: 23 February 2024 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: সন্দেশখালিতে নারী নিগ্রহ নিয়ে যখন গোটা রাজ্য তোলপাড় তখন হোটেলে দেহ ব্যবসা চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন হাওড়ার বিজেপি নেতা। হাওড়া সদরের কিষান মোর্চার সম্পাদক এবং শ্রমিক নেতা সব্যসাচী ঘোষকে (৫০) হোটেলে নাবালিকাকে নিয়ে দেহ ব্যবসা চালানোর অভিযোগে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করে পুলিশ। এই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে শুরু হয়েছে তরজা।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাঁকরাইলের ধূলাগড়ে ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি হোটেলে হানা দেয় পুলিশ। এখান থেকে এগারো জনকে গ্রেফতার করে সাঁকরাইল থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে ওই হোটেলের মালিক আন্দুলের বাসিন্দা সব্যসাচী ঘোষ। তিনি হাওড়া সদর বিজেপি কিষান মোর্চার সম্পাদক। দলবল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই হোটেলে নাবালিকা মেয়েদের নিয়ে দেহ ব্যবসা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই হোটেল থেকে দুজন নাবালিকা ও চারজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাকে উদ্ধারও করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে ইমমরাল ট্রাফিক অ্যাক্ট এবং পকসো আইনে মামলা শুরু হয়েছে। মহিলাদের উদ্ধার করে লিলুয়ার একটি হোমে পাঠানো হয়। দুই নাবালিকাকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়। ধৃতদের আজ হাওড়া আদালতের পকসো এজলাসে তোলা হয়।
এই গ্রেফতার নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, "কিছুদিন আগে গাঁজা পাচারের অভিযোগে সাঁকরাইল থেকে এক বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিজেপি নেতারা নানা ধরনের অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ প্রশাসন।" তিনি এ ব্যাপারে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গেও কথা বলবেন বলেও জানান মন্ত্রী। এদিকে বিজেপির হাওড়া সদরের সম্পাদক ওমপ্রকাশ সিংহ জানিয়েছেন সন্দেশখালির ঘটনা থেকে দৃষ্টি ফেরানোর জন্য এই ধরনের ঘটনা হচ্ছে। সব্যসাচী সরাসরি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কিনা তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখুক পুলিশ। তিনি বলেন, "ও যদি দোষী প্রমাণিত হয় তবে দল ওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এবং দলও এ ব্যাপারে আলাদা করে তদন্ত করবে। তবে বিরোধী দলের কর্মীদের পুলিশ হামেশাই মিথ্যে মামলায় জড়াচ্ছে। এটা ঠিক নয়।"