দ্য ওয়াল ব্যুরো: মা চাননি, ভাসান দেওয়া হোক তাঁকে। তাই বিসর্জনের প্রস্তুতির মাঝে জানিয়ে দিয়েছিলেন সেকথা। অবশ্য নিজে মুখে নয়। কিন্তু চোখের সামনে যা ঘটল, তা কি আর মায়ের নিদান না হয়ে যেতে পারে? তাই নিরঞ্জনের অর্ধেক কাজ সারা হয়ে যাওয়ার পরেও সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। বিসর্জনের বদলে মাতৃমূর্তি এখন স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা পেতে চলেছে হাওড়ার ব্যাঁটরার হেম চক্রবর্তী লেনে।
ঘটনাটি কালীপুজোর সময়কার। প্রত্যেক বছরের মতো এই বছরেও শ্যামাপূজার আয়োজন করেছিল হেম চক্রবর্তী লেনের একটি ক্লাব। পুজোপর্ব ভালয় ভালয় মিটে যায়। কিন্তু গোলমাল বাঁধে বিসর্জনের দিন। তখন বরণ চলছিল। সেই সময় হঠাৎ করেই এক মহিলা কাঁপতে কাঁপতে পড়ে যান মাটিতে। শুরুতে গোঁ গোঁ করতে থাকেন। তারপর তিনি বলে ওঠেন, "আমাকে প্রতিষ্ঠা কর, ভাসান দিবি না।"
এখন কথা শুনে উপস্থিত লোকজন হতচকিত হয়ে যান। অনেকেই বলেন, এ আসলে দৈববাণী। মহিলার উপর ভর হয়েছে, তাঁর মুখ দিয়ে নিজের ইচ্ছের কথা বলিয়ে নিচ্ছেন স্বয়ং মা কালী।
এরপর স্বাভাবিকভাবেই প্রতিমা বিসর্জনের সিদ্ধান্ত ত্যাগ করে ক্লাব কমিটি। উল্টে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে মাকে সেখানে স্থায়ীভাবে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। আপাতত ক্লাবেই রাখা হয়েছে মাতৃমূর্তি। মন্দির তৈরীর কাজ শেষ হলে সেখানেই প্রতিষ্ঠা করা হবে দেবীমূর্তি, এমনটাই জানিয়েছেন ক্লাব কর্তারা।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার কথা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তারপরেই 'জাগ্রত' কালী দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দূর-দূরান্তের মানুষ। যদিও ঘটনার কথা জানতে পেরে মানুষের অন্ধবিশ্বাস দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে বিজ্ঞান মঞ্চ। তাঁরা জানিয়েছেন, স্থানীয়দের যুক্তি দিয়ে পুরো ঘটনা বোঝানোর চেষ্টা করবেন তাঁরা।