
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 November 2024 12:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার রেলপথে হাওড়া থেকে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার দূরত্ব কমতে চলেছে। একই ট্রেনে হাওড়া থেকে মশাগ্রাম হয়ে কম সময়েই দুই গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া যাবে।
দক্ষিণ পূর্ব ও পূর্ব রেলের লাইন মশাগ্রামে জুড়তে চলেছে বলে খবর। তার জেরেই যাত্রীদের জন্য সফর আরও সহজ ও আরামদায়ক হতে চলেছে। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক এগোলেও আদৌ তা কতখানি বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিষ্ণুপুর থেকে হাওড়ার রেলপথ কমানোর উদ্যোগ বহু বছর আগেই নিয়েছে রেল। সে কারণেই হুগলির গোঘাটের ভাবাদিঘি দিয়ে লাইন পেতে বিষ্ণুপুর ও হাওড়ার মধ্যে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করে হচ্ছে। সেই কাজে একেবারেই সায় নেই স্থানীয় ৯১ জনের।
হুগলির গোঘাটে প্রায় ৫২ বিঘা দিঘির একাংশ বুজিয়ে রেলপথ পাতার কারণে আপত্তি তুলে লাগাতার আন্দোলন চলছে। গ্রামের মানুষের দাবি, ভাবাদিঘি বাঁচিয়ে তার উত্তর প্রান্ত বরাবর রেলপথ পাতা হোক। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ রেল। প্রযুক্তিগত কারণের যুক্তি দেখিয়ে রেল জানিয়েছে আন্দোলনকারীদের দাবি মানলে মাত্র সাড়ে ৬০০ মিটারের মধ্যে ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি লাইন বাঁকাতে হবে। যা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। আর সে কারণেই দ্রুত কাজ সারতে তাঁরা রাজ্যের সাহায্য চেয়েছে।
ইতিমধ্যে পূর্ব রেলের তরফে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছেন রেলবোর্ডের চেয়ারম্যান সতীশ কুমার। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। তবে হুগলি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে রেলের তরফে কোনও বার্তাই তাঁদের কাছে আসেনি।
গ্রামবাসীদের দাবি, তারকেশ্বর থেকে বিষ্ণুপুর পর্যন্ত ৮২.৪৭ কিমি রেলপথের জরিপ করার সময়ে ভাবাদিঘির উত্তর পাড় দিয়েই নকশা করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে জমি অধিগ্রহণ হলে জানা যায়, দিঘির একাংশ বুজিয়ে হবে রেললাইন।
২০১০ সালে ক্ষতিপূরণের টাকা নেওয়ার নোটিশ পাওয়া থেকেই ‘দিঘি বাঁচাও কমিটি’ আন্দোলন শুরু করেন। দিঘির ২৬৮ জন অংশীদারের মধ্যে ১৭৭ জন ক্ষতিপূরণ নিলেও ৯১ জন নেননি। ভুল বুঝিয়ে গ্রামবাসীদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলে এখনও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন তাঁরা। সবকিছু পরিকল্পনা হয়ে গেলেও শেষমেশ কবে এই কাজ শেষ হয় সেদিকে নজর থাকবে।