
শেষ আপডেট: 1 August 2023 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদে (Moon) যাচ্ছে মানুষ। নাসার আর্টেমিস মিশনে চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। তার আগে মহাকাশ বেশ কিছুদিন টহল দিয়ে আসবেন মহাকাশচারীরা। তাঁদের জন্য স্পেসস্যুট তৈরি হচ্ছে। এইসবের মধ্যেই একটা সমস্যা মাথাচাড়া দিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে থাকা আর মহাকাশে চষে বেড়ানো এক নয়। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে চাঁদে যাওয়া, তারপর চাঁদের পিঠে বেশ কিছুটা সময় কাটানো--এইসবই কি ওই একই স্পেসস্যুট আর অন্তর্বাস পরেই করবেন মহাকাশচারীরা?
চাঁদে (Moon) গিয়ে কি অন্তর্বাস কাচা যাবে? উত্তরটা অবশ্যই না। চাঁদে তো বায়ুমণ্ডলই নেই। তাছাড়া চাঁদের মাটিতে পা দেওয়া মাত্র শরীর হাল্কা হয়ে যাবে। তাই সব মিলিয়ে চিন্তা বেড়েছে নভশ্চরদের। চাঁদের পথে যেতেই তো মাসখানেক লাগবে। তারপর চাঁদে নেমে কী পরিবেশের মুখোমুখি হতে হবে তা এখনও অজানা। স্পেসস্যুটে চাঁদের ধুলো লাগবে, চাঁদের মাটিতে নানা মহাজাগতিক রশ্মির বিকিরণ হয়, সেসবের ভয়ও আছে। মহাকাশে এতটা সময় কি তাহলে একই অন্তর্বাস পরে থাকতে হবে? তাতে যদি সংক্রমণ হয়, সে ভয়ও পাচ্ছেন মহাকাশচারীরা।

এই সমস্যার সমাধান করতে নেমেছে অস্ট্রিয়ান স্পেস ফোরাম ও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ESA)। মহাকাশবিজ্ঞানীরা BACTeRMA নামে একটি প্রোজেক্ট শুরু করছেন যাতে মহাকাশচারীদের জন্য বিশেষ রকম স্পেসস্যুট তৈরি করা হচ্ছে। এমন উপাদান দিয়ে সেই স্পেসস্যুট তৈরি হবে যাতে ধুলোবালি লাগলেও তার থেকে ব্যাকটেরিয়া ছড়াবে না। চাঁদের ধুলো রেগোলিথ বা মহাজাগতিক রশ্মিকণা থেকে বাঁচতেও বিশেষ রকম উপাদান রাখা হচ্ছে সেই স্পেসস্যুটে।
আরও পড়ুন: পৃথিবীর প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে গেল চন্দ্রযান-৩, পরের স্টপেজ সোজা চাঁদে
ইফরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ইঞ্জিনিয়ার ম্যালগোরজ়াটা হোলিনস্কা বলছেন, খুবই হাল্কা হবে সেই স্পেসস্যুট। সাধারণত আমরা জামাকাপড় বা অন্তর্বাস কাচি কারণ দীর্ঘসময় তা শরীরের সংস্পর্শে থাকলে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে। কিন্তু নতুন যে স্পেসস্যুট তৈরি হচ্ছে তাতে তেমন সমস্যা নেই। ২৫০০ ঘণ্টা এই পোশাক গায়ে চাপিয়ে রাখা যাবে। শরীরের ঘাম বা দেহরস লাগলেও তা শুষে নেবে বিশেষ উপায়ে। পাশাপাশি ওই পোশাকে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদানও থাকবে যাতে কোনও ভাবেই সংক্রমণ না ছড়াতে পারে। চাঁদের ধুলো, ইলেকট্রন কণা বা মহাজাগতিক রশ্মি কণা লাগলেও সেই স্পেসস্যুটের কোনও ক্ষতি হবে না এবং সেইসব রশ্মি পোশাকের স্তর ভেদ করে শরীর অবধি পৌঁছতেও পারবে না।
উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারবে সেইসব স্পেসস্যুট। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তবে একটা সমস্যা আছে। মহাজাগতিক রশ্মি থেকে বাঁচতে স্পেসস্যুটে কপার ও সিলভারের অস্তরণ থাকবে। এই দুই উপাদান দীর্ঘসময় শরীরের সংস্পর্শে থাকলে তা থেকে সংক্রমণ হতে পারে। তাই এখন এর বিকল্প উপায় ভেবে চলেছেন বিজ্ঞানীরা।