
শেষ আপডেট: 28 July 2020 18:30
আম্বালায় অবতরণের পরে টুইট করে রাফালকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, “ঘরে এল রাফাল। আম্বালা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে নিরাপদেই অবতরণ করেছে। রাফাল কমব্যাট ফাইটার জেট ভারতীয় বায়ুসেনার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।” সংস্কৃতে টুইট করে দেশের মাটিতে রাফালকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।
যাত্রা শুরু হয়েছিল সোমবার। তার আগে রবিবার থেকেই কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছিল। ফ্রান্সে ভারতীয় দূতাবাস থেকে টুইট করে জানানো হয়েছিল ১২ জন পাইলটকে রাফাল ওড়ানো ও মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এয়ারবাস ৩৩০ মাল্টিরোল ট্যাঙ্কার ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট উড়িয়ে কীভাবে মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরতে হবে সেই ট্রেনিং নিয়েছেন পাইলটরা। ফ্রান্সে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জাভেদ আসরফ বলেন, দশটি রাফাল ভারতের জন্য তৈরি রেখেছে দাসো অ্যাভিয়েশন। প্রথম দফায় পাঁচটি পৌঁছেছে ভারতে। বাকিগুলি ট্রেনিং-এর জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার ৩৬ জন পাইলট ফ্রান্সে থেকেই বিশেষ প্রশিক্ষণ নেবেন। আগামী বছরের মধ্যেই ৩৬টি রাফাল পৌঁছে যাবে ভারতে।
https://twitter.com/DefenceMinIndia/status/1288394301639028736
৩৬টি রাফাল ফাইটার জেটের জন্য ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে ৫৯ হাজার কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরেই। মে মাসেই প্রথম চারটি রাফাল ভারতের হাতে আসার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে এই সময় পিছিয়ে যায়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রাফাল ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ‘গেম চেঞ্জার’হবে। চিনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের আবহে রাফালের মতো মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট হাতে পাওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই জানিয়েছেন বায়ুসেনার এক আধিকারিক। রাফালের মতো ওমনিরোল এয়ারক্রাফ্ট বায়ুসেনার হাতে চলে এল মানে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম আরও শক্তিশালী হয়ে উঠল। পাকিস্তানের এফ-১৬, জেএফ-২০ ফাইটার জেট ও চিনের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ এয়ারক্রাফ্ট চেংড়ু জে-২০-র মুখোমুখি মোকাবিলা করার মতো শক্তি বাড়ল ভারতের।
https://twitter.com/narendramodi/status/1288425006209228800
মেটিওর হল বিয়ন্ড ভিসুয়াল রেঞ্জ (বিভিআর) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল। ওজন ১৯০ কিলোগ্রাম। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও নিখুঁত টার্গেট করতে পারে। প্রতিটি মেটিওর মিসাইলের দাম ২০ কোটি টাকা। ‘স্কাল্প’ হল লো-অবজার্ভর ক্রুজ মিসাইল। দৈর্ঘ্যে ৫.১ মিটার এবং ওজন প্রায় ১৩০০ কিলোগ্রাম। ৬০০ কিলোমিটার পাল্লা অবধি লক্ষ্যে টার্গেট করতে পারে এই মিসাইল। আকাশ থেকে ভূমিতে ছোড়া যায় এই মিসাইল। এটি ব্যবহার করে ব্রিটিশ ও ফরাসি বায়ুসেনা। প্রতিটি স্কাল্প মিসাইলের দাম ৪০ কোটি টাকা।
চিনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে ফ্রান্স থেকে হ্যামার মিসাইল সিস্টেমও আনতে চলেছে ভারত। এই হ্যামার মিসাইল রাফাল ফাইটার জেট থেকে ছোড়া যায়। ‘হাইলি অ্যাজাইল মডিউলার মিউনিশন এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ’ মিসাইল সিস্টেম আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপ করা যায়। ৩ মিটার দৈর্ঘ্যের এই মিসাইল সিস্টেমের পাল্লা ৬০ কিলোমিটার। উঁচু পার্বত্য এলাকা, সমতলভূমি যে কোনও জায়গা থেকে আবহাওয়ার যে কোনও পরিস্থিতিতে ছোড়া যায়। একসঙ্গে অনেকগুলো নিশানায় আঘাত করতে পারে। আগে রাফাল থেকে ছোড়ার জন্য ইজরায়েলি স্পাইস-২০০০ বোমার কথা ভাবা হয়েছিল। এই স্পাইস বোমা বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের সময় ব্যবহার করা হয়। তবে পরে সিদ্ধান্ত বদলে মাঝারি পাল্লার হ্যামার মিসাইল সিস্টেম কেনারই পরিকল্পনা করে ভারতীয় বায়ুসেনা।