.jpg)
শেষ আপডেট: 9 February 2024 20:18
সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়, সন্দেশখালি
অগ্নিগর্ভ সন্দেশখালিতে ধরণী পাণ্ডাকে মনে পড়ছে পুরনো বাসিন্দাদের অনেকেরই। কান পাতলে এখানে ওখানে শোনা যাচ্ছে তাঁর নাম। তিনিই নাকি সন্দেশখালিতে তৃণমূলের প্রাণপুরুষ। ২০১১ সালে মা-মাটি-মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠার সময়েও তিনি ছিলেন। বাসিন্দাদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও ছিল প্রশ্নাতীত। কালে কালে বদলে গেল সব। অন্তরালে চলে গেলেন ধরণী পাণ্ডা। পেশিশক্তির জোরেই ধীরে ধীরে সন্দেশখালি হয়ে গেল শেখ শাহজাহানের মতো নেতাদের। গ্রামবাসীরা জানালেন, মারধর করেই তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ধরণীবাবু ও তাঁর অনুগামীদের।
গ্রামবাসীরা বলছেন, এলাকায় চাষের সুযোগ নেই। কিন্তু টাকা আছে। সুন্দবনের নদী খাঁড়ির মাছ বিক্রির টাকা, মিন চাষের টাকা, বন্যপশুদের দেহাংশ পাচারের টাকা। বাংলাদেশ সীমান্ত যে একেবারেই লাগোয়া। এলাকার দখল হাতে থাকলে টাকা আসবেই। এটাই বাংলাদেশ থেকে এ দেশে আসা শেখ শাহজাহান ভাল করে বুঝিয়ে দিয়ে তৈরি করে ফেলেছিলেন নিজস্ব একটা বৃত্ত। এই বৃত্তেই প্রথম সারিতে ছিলেন উত্তম সর্দার, শিবপ্রসাদ হাজরারা। গত প্রায় একদশক ধরে যারা সন্দেশখালির নদী বিচ্ছিন্ন এলাকার মানুষগুলিকে একরকম দাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন।
ভেরিতে মাছ চাষে বিপুল লাভ। অতএব নিরীহ গ্রামবাসীদের রান্নাঘরের পাশে থাকা একফালি জমি রাতের অন্ধকারে রাতারাতি হয়ে গেছে ভেরি। পোল্ট্রিতে লক্ষ্মীলাভ। বাড়ির লাগোয়া যে জমিতে সবজি ফলিয়ে খেত কোনও দুঃস্থ পরিবার, সেখানেই তৈরি হয়ে গেছে পোল্ট্রি ফার্ম। না, জমির মালিকের কোনও অনুমতি লাগেনি। বরং জমির মালিককেও সেখানে শ্রম দিতে হয়েছে মাসিক সামান্য টাকার বন্দোবস্তে। গ্রামবাসীরা বলেন, "প্রতিবাদ করার সাহসই কোনওদিন পাইনি। তাহলে তো প্রাণই থাকবে না। ভিটে থেকে উচ্ছেদ করে নদীতে নিয়ে ফেলবে।"
জেলিয়াখালির এক বাসিন্দা বলেন, "শিবু হাজরা এই এলাকার আদি বাসিন্দা। কংগ্রেস করতেন। বিপুল জমির মালিকানা ছিল তাঁদের পরিবারের। বাম আমলে অপারেশন বর্গার পরে সেই জমি বিলি-বণ্টন হয়ে যায়। বিধায়ক অনন্ত রায় সেইসময় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের পরে শেখ শাহজাহানের হাতে এলাকার ক্ষমতা যাওয়ার পরে ফের জমি পুনরুদ্ধারে নামেন শিবু হাজরারা। এখন প্রায় সাড়ে সাতশো বিঘা জমির মালিক শিবু হাজরা। ভেরি, বাগানবাড়ি, হ্যাচারি কী নেই তাঁর। শেখ শাহজাহানের হাত ধরেই এই বিপুল সম্পত্তির মালিক হন তিনি।"
শিবু হাজরার মতোই উত্তম সর্দারও শেখ শাহজাহানের হাত ধরে উঠে আসা এক নেতা। এই দুজনের দাপটেই তাঁদের প্রাণ ওষ্ঠাগত বলে জানালেন জেলিয়াখালি-তুষখালির মানুষ। বছরের পর বছর মানুষের মতো বাঁচার অধিকারটাই হারিয়ে ফেলেছিলেন তাঁরা। তুষের গাদায় আগুন তাই ছিলই। শেখ শাহজাহানের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে লাগাম ঢিলে হতেই বহিঃপ্রকাশ হল ক্ষোভের। অশান্তির আগুনে জ্বলে উঠল সন্দেশখালি।