মনমোহন সিংহ ৫৪ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন দলকে, রাহুল-সনিয়া কত দিয়েছিলেন ১৯-২০ অর্থবর্ষে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নরসিংহ রাও জমানায় অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণের পর সেই প্রথম কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্য হয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।
বিষ্যুদবার কংগ্রেসের এক চাঁদার তালিকা জানাজানি হয়েছে। বিষয়টা আহামরি ন
শেষ আপডেট: 5 February 2021 01:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নরসিংহ রাও জমানায় অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণের পর সেই প্রথম কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্য হয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।
বিষ্যুদবার কংগ্রেসের এক চাঁদার তালিকা জানাজানি হয়েছে। বিষয়টা আহামরি নয়। পার্টিকে কেউ ২০ হাজার টাকার বেশি চাঁদা দিলে তার নাম, প্যান নম্বর ইত্যাদির তালিকা এবং হিসাব নির্বাচন কমিশনে দিতে হয়। সেই হিসাবেই দেখা গিয়েছে, ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে মনমোহন সিং কংগ্রেসকে ৫৪ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছেন।
আলোচনা যখন কংগ্রেসকে নিয়ে তখন অনেকেরই কৌতূহল হতে পারে, তা হলে সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী কত টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন।
২০১৯-২০ অর্থ বর্ষের গোড়ায় রাহুল গান্ধী ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি। ভোটে বিপর্যয়ের পর সনিয়া ফের দলের সভানেত্রী হন। নির্বাচন কমিশনে পেশ করা হিসাবে দেখা যাচ্ছে, মনমোহন সমান অর্থাৎ ৫৪ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধীও। আর সনিয়া চাঁদা দিয়েছিলেন ৫০ হাজার টাকা।
ওই আর্থিক বছরে সর্বভারতীয় কংগ্রেস সাকুল্যে চাঁদা পেয়েছিল ১৩৯ কোটি টাকা। তার মধ্যে ভারতি এয়ারটেলের প্রুডেন্ট ইলেকটোরাল ট্রাস্ট দিয়েছিল ৩১ কোটি টাকা। আর আইটিসি দিয়েছিল ১৩ কোটি টাকা।
যদিও সেই চাঁদার পরিমাণ ছিল আগের আর্থিক বছরের তুলনায় কম। ১৮-১৯ আর্থিক বছরে কংগ্রেস ১৪৬ কোটি টাকা চাঁদা পেয়েছিল।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, কংগ্রেসের মধ্যে সব থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিয়েছিলেন কে?
সেই তিনি হলেন, বিশিষ্ট আইনজীবী তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী কপিল সিব্বল। আইনজীবী হিসাবে কপিল খুবই সফল। শোনা যায় জোড়বাগে যে চার তলা বাড়িটি নিয়ে তিনি অফিস চালান, পাঁচ বছর আগেই তার মাসিক ভাড়া ছিল ১৬ লক্ষ টাকা।

১৯-২০ আর্থিক বছরে কপিল সিব্বল দলকে চাঁদা দিয়েছিলেন ৩ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের সাংগঠনিক সংস্কারের দাবি তুলে সম্প্রতি খুবই সরব হয়েছিলেন কপিল। সে সময়ে দলের মধ্যে থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
সে যাক। বাস্তব হল, সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সম্পত্তির পরিমাণ কম নয়। স্বাধীনতার আগে থেকে বিভিন্ন রাজ্যের বড় শহর ও জেলা শহরে বিশাল সব ভবনে কংগ্রেসের পার্টি অফিস শুরু হয়েছিল। কেউ সেই বাড়ি দান করেছিলেন, কেউ বা জমি দিয়েছিলেন সাবেক দলকে। চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, মুম্বই, লখনউর মতো শহরে কংগ্রেসের একাধিক পার্টি অফিস এমন সব জায়গায় রয়েছে যে সে সবের বর্তমান বাজারমূল্য অনেক। কোথাও আবার ভাড়াটে বসে রয়েছে। কোথাও আইনি জট রয়েছে।
রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সহ সভাপতি হওয়ার পর এক সময়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী কনিষ্ক সিংহকে কংগ্রেসের এ সব সম্পত্তির সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ অডিট করতে বলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তা কতদূর এগিয়েছিল, তা অবশ্য জানা যায়নি। সাবেক কংগ্রেস বরং এখন অর্থ সংকটে রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিজেপির তুলনায় কংগ্রেসের যে চাঁদা ওঠে তা খুবই কম।