দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লির সচিবালয়ে রোজই আসে কয়েক হাজার দর্শনার্থী। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাছে নানা অভাব-অভিযোগ জানাতে আসে তারা। রক্ষীরা ৪০ বছরের অনিল শর্মাকে দেখে ভেবেছিলেন তাদেরই একজন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর মুখে লঙ্কাগুঁড়ো মাখিয়ে দিয়ে সে এখন সর্বভারতীয় খবরের শিরোনামে। আম আদমি পার্টি থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রেরও অভিযোগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ের চারতলার চেম্বার ছেড়ে লাঞ্চ করতে যাচ্ছিলেন কেজরিওয়াল। এমন সময় অনিল তাঁর কাছে এগিয়ে যান। তাঁর হাতে ছিল একটি চিঠি। মুখ্যমন্ত্রীর হাতে চিঠি দিয়ে তাঁর পায়ে নমস্কার করেন। এই অবধি ঠিকই ছিল। কিন্তু তার পরেই লঙ্কাগুঁড়ো হাতে নিয়ে মাখিয়ে দেন কেজরিওয়ালের মুখে। তাঁর চশমা ছিল বলে চোখদুটি রেহাই পেয়েছে।
দিল্লি পুলিশ বলে, অনিল হয়তো ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ আক্রমণ করেছিল। অন্যদিকে আপ সরকারের অভিযোগ, পুলিশ ওই আক্রমণের আট ঘণ্টা বাদে অনিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, অনিল লঙ্কাগুঁড়ো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চলে যেতে পারল কী করে? অনেকে বলছেন, লঙ্কাগুঁড়োর বদলে তার কাছে যদি অস্ত্র থাকত তা হলে কী হত?
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অনিল দিল্লি সচিবালয়ের রিসেপশনে গিয়ে বলে, এক অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসায় সাহায্য করার জন্য সে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাতে চায়। রিসেপশনিস্ট তাকে ভিতরে যেতে অনুমতি দেন। তাকে পাবলিক গ্রিভ্যান্স মনিটরিং সিস্টেম অফিসে যাওয়ার জন্য পাসও দেওয়া হয়।
ওই অফিসে যাওয়ার জন্য পেরতে হয় ছয় নম্বর গেট। সেখানে প্রত্যেককে তল্লাশি করা হয়। কিন্তু অনিল পানমশলার প্যাকেটে লঙ্কাগুঁড়ো রেখেছিল। তল্লাশির সময় কেউ সন্দেহ করেনি।
অনিলের ফেসবুক পেজে লেখা আছে, সে উত্তরপ্রদেশের খুরজায় এনআরইসি কলেজের ছাত্র ছিল। এখন সে বিজেপির সদস্য। সে চায় অযোধ্যায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রামমন্দির নির্মাণ শুরু হোক। কেজরিওয়াল থেকে সমাজবাদী নেতা মুলায়ম সিং যাদব, সকলকেই সে সমালোচনা করেছে।
কেজরিওয়ালের ওপরে আক্রমণের পর অনিলকে যখন পুলিশ টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে, তখনও সে বলছিল, বিজেপি প্রকৃত দেশপ্রেমিকের দল। সে নিজেও দেশপ্রেমিক। অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিশ্বাসঘাতক।
দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ শিশোদিয়া বলেন, কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল বিজেপি আর দিল্লি পুলিশ। দিল্লির বিজেপি শাখার সভাপতি মনোজ তেওয়ারি অবশ্য বলেছেন, কারও ওপরে এই ধরণের আক্রমণ হওয়া উচিত নয়। পুরো বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।