দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ মুখ্যমন্ত্রী হলেন বটে, কিন্তু যে ভাবে সমর্থন পেয়েছেন, তাতে তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। কারণ উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের সমর্থনের চিঠি।
শরদ পাওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) পরিষদীয় দলের প্রধান ছিলেন শরদের ভাইপো অজিত। তিনি সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেই রাজ্যপালকে চিঠি দেন দেবেন্দ্র ফড়ণবীশকে সমর্থন করে। শরদ পাওয়ার বলেন, যে কাগজে বিধায়কদের সই করানো হয়েছিল শিবসেনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন করার জন্য, সই করা সেই কাগজটি অজিত দিয়ে দেন রাজ্যপালকে। অজিত নিজে পরিষদীয় দলের নেতা। তাই চিঠিটি তিনি নিজের প্যাডেই দিয়েছেন। অর্থাৎ রাজ্যপালের কাছে যে চিঠিটি রয়েছে সেটি বৈধ, সইগুলিও আসল।
শরদ পাওয়ার জানিয়ে দিয়েছেন, ভাইপো অজিতের সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত, এর সঙ্গে এনসিপির কোনও সম্পর্ক নেই।
অজিত পাওয়ারকে এনসিপি পরিষদীয় দলের প্রধান থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও দল থেকে বহিষ্কার করা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শরদ পাওয়ার।
অজিত পাওয়ারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ। এখন তাঁকেই উপমুখ্যমন্ত্রী করে শপথ নিয়েছেন দেবেন্দ্র। তাই প্রশ্ন উঠছে কী ভাবে এখন অজিতের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাবেন দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় শিবসেনার প্রধান উদ্ধব ঠাকরেকে মহারাষ্ট্রের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরেন শরদ পওয়ার।
কিন্তু সকালে তাঁরা দু’জনেই জানতে পারেন যে দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এনসিপির সমর্থন নিয়ে।
এনসিপি বিধায়করা জানিয়েছেন, ভোরে তাঁরা অজিতের ফোন পান। তাঁদের একটি জায়গায় যেতে বলা হয়। পরে তাঁদের কয়েকজন রাজভবনে যান। আগে থেকে তাঁরা জানতেনই না যে রাজভবনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হচ্ছে।
শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে যৌথ ভাবে সাংবাদিক বৈঠক করেন শরদ পাওয়ার। তার আগেই সংবাদমাধ্যমে জানা যায় যে, অজিত পাওয়ারকে পষদীয় দলের নেতার পদ থেকে অপসারণ করা হচ্ছে। অজিতের সঙ্গে ১০-১১ জন বিধায়ক আছেন বলে মনে করছে এনসিপি। ৩৬ জনের কম বিধায়ক সঙ্গে থাকলে দলত্যাগবিরোধী আইনে অভিযুক্ত হতে পারেন অজিতের সঙ্গে থাকা বিধায়করা। সে ক্ষেত্রে তাঁদের বিধায়ক পদ হারানোর আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।
মহারাষ্ট্র নিয়ে নাটক এখন তুঙ্গে। আজই বিকেল সাড়ে চারটেয় দলের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন শরদ পাওয়ার। কাল বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠক, সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন অজিত পাওয়ার।