দ্য ওয়াল ব্যুরো: কে বলবে সেই হিমশীতল দক্ষিণ মেরু। দিন দিন যেন সব রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে আন্টার্কটিকা ও আর্কটিকে (সুমেরু ও কুমেরু)। দক্ষিণ মেরুতে এখন গ্রীষ্ম। তাই বলে এমন তাপমাত্রা আন্টার্কটিকায়, চোখ কপালে উঠেছে আবহবিদদের। ৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার রেকর্ড তাপমাত্রা ধরা পড়েছে আন্টার্কটিকার শীতলতম এলাকায়। তাপমাত্রার পারদ ১৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা সিমলার চেয়েও বেশি। বুধবার সিমলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আর্জেন্টিনার আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উষ্ণতম আন্টার্কটিকা দেখা গিয়েছিল সেই ১৯৬১ সালে। তারপর ২০১৫-তে ফের উষ্ণতা বাড়ে। ২৪ মার্চ তাপমাত্রার পারদ ছাড়ায় ১৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহবিজ্ঞানীরা বলছে, গ্রীষ্ম চলছে আন্টার্কটিকায় তবে উষ্ণতম মাস ধরা হয় জানুয়ারিকে। তাও তাপমাত্রার পারদ এতটা চড়ে না। যেভাবে জলবায়ু বদলাচ্ছে, উষ্ণায়ণ বাড়ছে, মেরুপ্রদেশের হিমবাহ (গ্লেসিয়ার) দ্রুতহারে গলছে, তাতে বিপর্যয়ের আর বেশি দেরি নেই।
‘ওয়ার্লড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (WMO)’-এর মুখপাত্র ক্লেয়ার নালিস বলেছেন, গ্রীষ্মের সময় হলেও আন্টার্কটিকায় ১৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস অবিশ্বাস্য। জলবায়ু বদলের ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়তে শুরু করে দিয়েছে দক্ষিণ মেরুতে। রাষ্ট্রপুঞ্জের এই সংস্থার আবহবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ণ যে হারে বাড়ছে তাতে আর ৮০ বছরের মধ্যেই মেরুপ্রদেশের এক-তৃতীয়াংশ বরফ পুরোপুরি গলে যাবে।
https://twitter.com/SMN_Argentina/status/1225455484259442691?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1225455484259442691&ref_url=https%3A%2F%2Ftheprint.in%2Fscience%2Fhotter-than-shimla-3-degrees-colder-than-delhi-antarctica-temperature-hits-record-high%2F361788%2F
আবহবিজ্ঞানীরা বলছেন, গত ৫০ বছরে মেরুপ্রদেশের তাপমাত্রা বেড়েছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আন্টার্কটিকের এসপেরানজা বেসের অবস্থা বিপজ্জনক জায়গায় দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছরই একটু একটু করে তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। আর্জেন্টিনার অন্য বেস মারাম্বিও, যা এসপেরানজা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে, সেখানেও তাপমাত্রা বাড়ছে দ্রুত হারে। ২০১৩ সালে এই এলাকার তাপমাত্রা ছিল ১৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ১৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

২০১৫ সালে ডিসেম্বরে প্যারিসে সংযুক্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো নিয়ে ১৯০টি দেশ একটি সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করে। এটাই বিখ্যাত প্যারিস চুক্তি। এই চুক্তিতে ঠিক হয়েছিল, পৃথিবীর গড় উষ্ণতার বৃদ্ধি প্রাকশিল্পায়ন যুগের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখতে হবে। কিন্তু পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপুঞ্জের ইন্টারগভর্মেন্টাল প্যানেল ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) ২০১৮ সালে বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে একটি বিশেষ গাইডলাইন তৈরি করে। যেখানে বলা হয়,প্যারিস চুক্তিতে ঠিক হওয়া ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর বিপর্যয় তাঁদের আগের হিসাব থেকে অনেক বেশি হবে বলে তাঁরা মনে করছেন। তাই তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড রাখার চেষ্টা না করলে প্রলয় অনিবার্য।

গ্রিন হাউস গ্যাসগুলিই বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী। কার্বন ডাইঅক্সাইড-সহ অন্য গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ ২০১৫-২০১৯-এর সময়কালে ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। কার্বন ডাইঅক্সাইড বৃদ্ধির হার পূর্ববর্তী পাঁচ বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ। রিপোর্ট আরও বলছে, : আন্টার্কটিকার বরফ স্তর কমে যাওয়ার হার বেড়েছে ছয় গুণ, ১৯৭৯-১৯৯০ সালে কমেছিল বছরে ৪০ গিগা টন আর ২০০৯—২০১৭ এই সময়ে কমছে বছরে ২৫২ গিগা টন করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আর ৮০ বছর পর হিমালয়ের এক-তৃতীয়াংশ বরফের পুরোটাই গলে যাবে। আর সেই তাপমাত্রার বাড়-বৃদ্ধি যদি হয় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি তা হলে আরও ভয়ানক অবস্থা তৈরি হবে। গলে যাবে হিমালয়ের অর্ধেক বরফ। ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭ থেকে ৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বাড়লে গলে যাবে দুই-তৃতীয়াংশ বরফ।