
শেষ আপডেট: 26 August 2023 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ষার স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় মশার উৎপাত বাড়ে, এমনটাই এতদিন জানতাম আমরা। কিন্তু খামখেয়ালি আবহাওয়া সব হিসেব উল্টে দিচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, ভ্যাপসা গরমেও ডেঙ্গির (Dengue) প্রকোপ বাড়ছে। বংশবিস্তার করছে এডিস মশারা। কেরলের রাজীব গান্ধী সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি (আরজিসিবি)-র গবেষকরা দাবি করেছেন, তাপমাত্রা বাড়লে ডেঙ্গি ভাইরাস (Dengue) আরও সংক্রামক হয়ে উঠতে পারে।
গবেষকদের দাবি, ডেঙ্গি ভাইরাসের স্ট্রেন বিভিন্ন তাপমাত্রায় রেখে তার প্রভাব পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। দেখা গেছে, তবেশি তাপমাত্রায় থাকা ডেঙ্গি ভাইরাসের (Dengue) মধ্যে রাসায়নিক বদল হয়েছে। ভাইরাল স্ট্রেন আরও সংক্রামক হয়ে উঠেছে। ফর্টিস এসকর্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুনীল চৌধুরী ল্যাবরেটরিতে ইঁদুরদের উপর পরীক্ষা করে দেখেন, উচ্চ তাপমাত্রায় থাকা ডেঙ্গি ভাইরাসের (Dengue) স্ট্রেন ইঁদুরের হার্ট, লিভার, কিডনিতে মারাত্মক ক্ষতি করেছে। তাপমাত্রা যত বাড়ানো হয়েছে, ততই বেড়েছে ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গিতে প্লেটলেট কেন কমে? মানব শরীরের ঠিক কোথায় গিয়ে গন্ডগোল পাকায় ভাইরাস
কেন বেশি তাপমাত্রায় ভাইরাসের জেনেটিক গঠনে বদল আসছে তা জানতে জিনোম সিকুয়েন্স করা হবে বলে দাবি গবেষকদের। ডেঙ্গি হল আরএনএ ভাইরাস। স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই মশারা হল এই ভাইরাসের বাহক। ডেঙ্গি ভাইরাস মশাদের শরীরে কোনও সংক্রমণ ছড়ায় না। স্ত্রী মশা পেটে এই ভাইরাস বহন করে। প্রায় ৮-১০ দিন পরে সেই ভাইরাস মশার দেহের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে ও মশার লালাগ্রন্থির মাধ্যমে লালাতেও চলে আসে। ডেঙ্গি (Dengue) ভাইরাস বহনকারী মশা মানুষের শরীরে কামড়ালে ভাইরাস মানুষের দেহে সংক্রামিত হয়। ভাইরাস প্রথমে লালার মাধ্যমে ত্বকের ভিতরে প্রবেশ করে। পরে শ্বেত রক্তকোষে ঢোকে। এই কোষ শরীরের সবজায়গায় চলাচল করে। তাই কিছুদিনের মধ্যেই ভাইরাস প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় ও সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। যাদের ক্রনিক অসুখ, যেমন ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, অ্যানিমিয়া, টিবি আছে তাদের এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গি প্রাণঘাতী হতে পারে।
ফ্ল্যাভিভিরিডি পরিবার ও ফ্ল্যাভিভাইরাস গণের এই ডেঙ্গি ভাইরাসের পরিবার অনেক বড়। এদের পাঁচ রকমের সেরোটাইপ আছে যারা প্রত্যেকেই ভয়ঙ্কর রোগ তৈরি করতে পারে। স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই (aedes aegypti) মশা এই ভাইরাসদের বাহক। ডেঙ্গি ভাইরাসের অনেকরকম স্ট্রেন আছে। ডেনভি-৩ স্ট্রেন খুব সংক্রামক। কত দ্রুত মানুষের শরীরে এই ভাইরাস রোগ ছড়াতে পারে তা দেখতে একটা সময় ‘ডেনভি-৩ লাইভ হিউম্যান চ্যালেঞ্জ’ (DENV-3-LVHC) নামে ক্যাম্পেনও করা হয়েছিল। সেখানে ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের রক্তের নমুনা নিয়ে ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করেন বিজ্ঞানীরা। মশার লালার সঙ্গে ডেনভি-৩ শরীরে ঢুকে গেলে খুব তাড়াতাড়ি রোগ ছড়াতে পারে। এই ভাইরাসের প্রকোপে গাঁটে গাঁটে ব্যথা শুরু হয়, তারপর রক্তে প্লেটলেট বা অনুচক্রিকা কমতে শুরু করে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডেঙ্গি ভাইরাস ক্রমেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। ডেঙ্গি হেমারেজিক ফিভার হলে তার ফল আরও মারাত্মক। এই রোগের প্রধান লক্ষণ হল, রক্তের মধ্যে প্লেটলেট বা অনুচক্রিকার সংখ্যা কমে যাওয়া এবং রক্তের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেওয়া। যার ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। আর এর মধ্যেই যদি গরম বাড়লে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ে, তাহলে এই রোগ ঘরে ঘরে ছড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।