দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কঠোরতম সমালোচক ছিলেন বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনি। বৃহস্পতিবার তিনি বিমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ, তাঁকে সকালে চায়ের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছিল। তিনি ওমস্ক শহরে এক হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। শুক্রবার নাভালনিকে অপর একটি বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু ওমস্কের ওই হাসপাতালের ডাক্তাররা তাতে রাজি হননি। তাঁদের ধারণা, বিরোধী নেতাকে স্থানান্তর করার চেষ্টা করলে ফল খারাপ হতে পারে।
নাভালনির মুখপাত্র কিরা ইয়ারমিশ জানান, শুক্রবার হাসপাতালের ডাক্তার বলেছেন, নাভালনির অবস্থা স্থিতিশীল নয়। তিনি কোমায় চলে গিয়েছেন। এদিন তাঁর চিকিৎসার জন্য আনা হবে একটি জার্মান এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। সেই সঙ্গে আসবেন একদল বিশেষজ্ঞ।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, ওমস্ক এমার্জেন্সি হাসপাতালে টক্সিকোলজির রোগী হিসাবে ভর্তি আছেন নাভালনি। হাসপাতালের চিফ ডক্টর আলেক্সান্দার মুরাখোভস্কি বলেন, “নাভালনি গুরুতর অসুস্থ।” হাসপাতালের ডেপুটি হেড আনাতোলি কালিনিচেঙ্কো বলেন, “বিরোধী নেতাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষপ্রয়োগেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কিনা এখনও নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। কয়েকটি পরীক্ষার পরে তা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
নাভালনি অ্যান্টি করাপশান ফাউন্ডেশন নামে এক সংস্থার প্রধান ছিলেন। সেই সংগঠনের আইনি শাখার সদস্য ভায়াশিলভ গিমাদি টুইটারে লিখেছেন, “রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্যই নাভালনিকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই।” নাভালনির আইনজীবীরা দাবি করেছেন, কারা হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল জানার জন্য তদন্ত হোক।
এর আগেও নাভালনির ওপরে দুষ্কৃতীরা হামলা করেছিল। ২০১৭ সালের একদিন নাভালনি যখন অফিস থেকে বেরোচ্ছেন, তখন একদল দুষ্কৃতী তাঁর মুখে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ছোড়ে। গতবছর অগাস্ট মাসে ‘বেআইনি প্রতিবাদ সমাবেশে’ নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে নাভালনি বন্দি হয়েছিলেন। পুলিস হেপাজতে তাঁর হাতে র্যাশ বেরিয়েছিল। চিকিৎসকরা অবশ্য বলেছিলেন, তাঁর অ্যালার্জি হয়েছে। কিন্তু নাভালনি দাবি করেছিলেন, তাঁর শরীরে বিষক্রিয়া হয়েছে।