
শেষ আপডেট: 3 December 2023 14:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ছেলেরা রবিবার বাড়ি ফিরছে, আগেই জেনে গিয়েছিলেন সৌভিক পাখিরা ও জয়দেব প্রামাণিকের পরিবার। তাই অধীর আগ্রহে রাত থেকে পথ চেয়ে বসেছিলেন তাঁরা। ভোর হতেই বন্ধুরা ছুটে গিয়েছিলেন স্টেশনে। ট্রেন থেকে প্ল্যাটফর্মে পা রাখতেই দুজনকেই জড়িয়ে ধরলেন সকলে। গলায় মালা পরিয়ে স্বাগত জানালেন দুই 'মৃত্যুঞ্জয়ী' বন্ধুকে।
সংসারের হাল ধরতে, একটু বেশি রোজগারের আশায় উত্তরকাশীর টানেলে কাজ করতে গিয়েছিলেন হুগলির পুরশুড়ার দুই তরুণ সৌভিক ও জয়দেব। সেখানে কাজ করার সময় টানেলের মুখে পাথরের চাঁই ধসে পড়ে। টানেলের মাঝে আটকে পড়েন সৌভিক ও জয়দেব সহ মোট ৪১ জন শ্রমিক। ১৭ দিন ধরে টানেলের মধ্যে আটকে ছিলেন তাঁরা। অনেক চেষ্টার পরে গত ২৮ নভেম্বর তাঁদের বের করে আনা হয়। এইমসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর একে একে বাড়ি ফিরছেন এই শ্রমিকরা। রবিবার সৌভিক ও জয়দেবও বাড়ি ফিরলেন।
তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জয়দেব বলেন, ”আমরা তখন ভিতরে কাজ করছিলাম। পরে এসে দেখি ধস নেমেছে। আমরা টানেলের মধ্যে আটকে পড়েছি। তবে ভয় পাইনি। চোর-পুলিশ খেলে সময় কাটিয়েছি। খাওয়া-দাওয়ারও অসুবিধা হয়নি। সবদিকে খেয়াল রাখা হয়েছিল। সংস্থাই টিকিটে কেটে বাড়ি পাঠিয়েছে। আবার কাজে ফিরে যেতে হবে।“
সৌভিক পাখিরা বলেন, “অনেক দিন পর সকলকে দেখতে পেয়ে খুব ভাল লাগছে। বাড়িতে সকলের সঙ্গে আনন্দ করব।“
এদিন ছেলের আসার অপেক্ষায় সকাল থেকে বাড়ির সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন জয়দেবের মা ও বাবা। টোটো থেকে ছেলেকে নামতে দেখে সন্তানকে জড়িয়ে ধরেন তাঁরা। ছেলে উত্তরকাশীর টানেলে আটকে পড়েছে এমন খবর বাড়িতে আসতেই রীতিমতো নাওয়া খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছিল। ভিডিও কলে বহুবার কথা বলেও মায়ের মন শান্ত হচ্ছিল না। অবশেষে ছেলে বাড়ি ফিরতে চোখের জলে বাঁধ দিতে পারেননি।
সৌভিকের মা বলেন, ”ছেলে জীবনের সব বাধা কাটিয়ে এভাবে এগিয়ে যাক, এটাই চাই। ওরা যেন দীর্ঘজীবী হয়।“