
বোমায় জখম কিশোরের মাকে গ্রেফতার করল পুলিশ
শেষ আপডেট: 6 May 2024 15:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: পাণ্ডুয়া বোমা বিস্ফোরণ কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়। বোমায় জখম কিশোর রূপমের বাবা শুকদেব বল্লভের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হল রূপমের মাকে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সরকার এই খবর জানান।
তিনি বলেন, "সকালে ওই ঘটনার পরেই পাণ্ডুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বোমায় আহত এক কিশোরের বাবা। অভিযোগপত্রে এই ঘটনার পিছনে ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তারপরেই এফআইআরে নাম থাকা ওই মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।"
ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে নেতাজি পল্লীতে বোমা রাখা হয়েছিল বলে সন্দেহ পুলিশের। সেই বোমাকে বল ভেবে খেলতে যায় তিন কিশোর। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় একজনের। আহত হয় দুজন। আহত এক কিশোরের বাবা শুকদেব বল্লভের অভিযোগ, তার সাথে বিচ্ছেদের পর পাড়ারই এক যুবককে বিয়ে করে তাঁর স্ত্রী। বিহারে হাতুরে চিকিৎসকের কাজ করেন ওই যুবক। নেতাজী পল্লীতে তার দোতলা বাড়ি তালা দেওয়া। মাস পাঁচেক আগে তারা বিহারে চলে যান। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও সন্তানকে দেখতে আসতেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী। গত পরশু দাঁতের চিকিৎসার জন্য পান্ডুয়া আসেন। এদিন সকালে বোমা বিস্ফোরণের পর হাসপাতালেও যান ছেলেকে দেখতে।
এই গ্রেফতারের ঘটনায় হতবাক প্রতিবেশীরা। মহিলার এক ভাড়াটে জানান, এদিন ফোনে তার সঙ্গে কথা হয়। তখন সে জানায় তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বোমা রাখা বা বিস্ফোরণে তার কতটা হাত রয়েছে তা বুঝে উঠতে পারছেন না মহিলার বাপের বাড়ির গ্রাম সবুজ পল্লীর বাসিন্দারা। তবে পুলিশ জানিয়েছে তারা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছেন। মহিলার বর্তমান স্বামীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিআইডির বম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলে আসে তদন্তে। আরও দুটি বোমা উদ্ধার করে তারা। সোমবার সকালে পান্ডুয়ার তিন্না নেতাজী পল্লি কলোনিতে বোমা বিস্ফোরণে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই কিশোর গুরুতর জখম হয়। তাদের মধ্যে একজনের হাত উড়ে গেছে বোমায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে মাঠের ধারে একটি পুকুরের পাশে বোমা রাখা হয়েছিল। ওই কিশোররা সেখানে খেলতে গেলে বিস্ফোরণ হয়। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। ছুটে আসেন এলাকার লোকজন। তাঁরাই গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে পান্ডুয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাজ বিশ্বাস নামে একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে বাকি দুজনের চিকিৎসা চলছে।
২০ মে পঞ্চম দফায় ভোট হুগলিতে। তার আগে বোমা ফেটে কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় পড়ে যায় গোটা জেলাজুড়ে। বিরোধীদের অভিযোগ, সন্ত্রাসের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। হুগলির বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, "ভোটের দিন সন্ত্রাস করতেই জায়গায় জায়গায় বোমা মজুত করছে তৃণমূল। আর অজান্তেই তার বলি হল নিরীহ কিশোর। মানুষ নিশ্চই ভোটের বাক্সে এর জবাব দেবে।" শাসকদলের পাল্টা দাবি, ভোটে পরাজয় নিশ্চিত জেনে সন্ত্রাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। তারই জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
এই রাজনৈতিক চাপানউতোর চলাকালীনই এই ঘটনায় জখম ছাত্রের মাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তাও আবার ওই কিশোরের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে। তারপরেই এই ঘটনার তদন্ত নতুন মোড় নেয়।