
শেষ আপডেট: 8 February 2024 20:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাল গাছ তেকে পড়ে কোমর ভেঙেছিল। হাঁটাচলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন শেখ সইফুদ্দিন। গত বারো বছর ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী তিনি। সঙ্গী শুধু হুইলচেয়ার। চরম দুর্দশার দিনে পাশে থাকেননি স্ত্রীও। প্রৌঢ়া মা আজমিরা বেগমই পাশে ছিলেন ছেলের। কিন্তু উপার্জনক্ষম ছেলে পঙ্গু হয়ে যাওয়ায় সংসার আর টানতে পারছিলেন না। তারপর ছেলের চিকিৎসার খরচ। অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পুলিশ কর্মী সুকুমার উপাধ্যায়।
সহায় সম্বলহীন বা বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবার নজির অনেক পুলিশ কর্মীরই আছে। বারে বারেই পুলিশের মানবিক রূপ সামনে এসেছে। তেমনই একজন হলেন সুকুমারবাবু। চুঁচুড়া হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে দেখা হয় সইফুদ্দিনের। এই পরিবারের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনে তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সুকুমারবাবুর সহযোগিতাতেই গত ১২ বছর পর সরকারের প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন সইফুদ্দিন।
ব্যান্ডেল ঈশ্বরবাগের বাসিন্দা আজমিরা বেগমের বড় ছেলে সেখ সাইফুদ্দিন গত বারো বছর ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী। তালগাছ থেকে পরে কোমর ভেঙে হাঁটা চলার ক্ষমতা হারান তিনি। প্রায় এক বছর কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি সেখানে অস্ত্রোপচার করেও শিরদাঁড়া সোজা হয়নি। তখন থেকেই হুইল চেয়ার সঙ্গী। ক্যাথিটার পাল্টাতে হয় মাসে দুবার। বিছানায় শুয়ে থেকে বেডসোর হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা চলছে। কিডনির সমস্যাও দেখা দিয়েছে। মাস দুয়েক আগে চুঁচুড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সইফুদ্দিন। সেখানেই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় পুলিশ কর্মী সুকুমার উপাধ্যায়ের।
চুঁচুড়ায় চন্দননগর পুলিশের কনস্টেবল সুকুমারবাবু। জেল থেকে আসামি নিয়ে প্রায়ই যেতে হয় হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। সেখানেই সাইফুদ্দিনের সঙ্গে আলাপ। সুকুমারবাবুর এক সহকর্মী মহকুমা শাসকের দেহরক্ষী। তাঁর সাহায্যে মহকুমা শাসকের সঙ্গে কথা বলে মগড়া বিডিও অফিস থেকে সাইফুদ্দিনের জন্য প্রতিবন্ধী শংসাপত্র বের করার ব্যবস্থা করেন।
সইফুদ্দিনের কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল না। টাকা দিয়ে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে দেন সুকুমারবাবু। দিন তিনেক আগে সইফুদ্দিনের অ্যাকাউন্টে প্রতিবন্ধী ভাতার প্রথম কিস্তির টাকা ঢোকে। গত ১২ বছরে যা হয়নি পুলিশ কর্মী সুকুমারের সাহায্যে তা পূরন হওয়ায় যারপরনাই খুশি সাইফুদ্দিন ও তাঁর মা।
প্রৌঢ়া আজমিরার স্বামী শেখ মকবুল যখন মারা যান তাদের তিন ছেলে, এক মেয়ে নিতান্তই ছোটো। বড় ছেলে সইফুদ্দিনের বয়স তখন পাঁচ। পরিচারিকার কাজ করে কোনওভাবে ছেলেমেয়েদের বড় করেছেন। বর্তমানে মেজো ছেলে দিন মজুরের কাজ করে,ছোটো ছেলে স্থানীয় একটি কারখানায় ঠিকা শ্রমিক। টালির চালার দু’কামরা ঘরে কোনওরকমে মাথা গোঁজার জায়গা। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তবে বড় ছেলেকে নিয়ে লড়াই থামেনি। প্রায় ত্রিশ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। তবুও বিধবা ভাতাও মেলেনি। এমন অবস্থা ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতা কিছুটা হলেও সুরাহা হবে বলে জানিয়েছেন আজমিরা বেগম।