দ্য ওয়াল ব্যুরো : নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য কয়েক হাজার লোকের সঙ্গে আমাকেও আটক করেছে। বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে এমনই টুইট করলেন স্বরাজ ইন্ডিয়া দলের নেতা যোগেন্দ্র যাদব। তিনি বলেন, আটক হওয়ায় আমি সম্মানিত হয়েছি।
যোগেন্দ্র যাদবের টুইটারে লেখা হয়েছে, "১৯ ডিসেম্বর আসফাকুল্লা খান ও রামপ্রসাদ বিসমিলের শহিদ দিবসে আটক হওয়া গৌরবের ব্যাপার। পাতিয়ালার প্রাক্তন সাংসদ ধর্মবীর গান্ধীও এদিন আটক হয়েছেন। তাঁর সঙ্গেই আমি আছি।"
অপর একটি টুইটে যোগেন্দ্র যাদব বলেন, "বেঙ্গালুরুতেও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দলে দলে আটক করেছে পুলিশ। অত মানুষকে জেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট সংখ্যক গাড়ি নেই। দফায় দফায় ছাত্র, সমাজকর্মী ও লেখকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। অতজনকে থানায় নিয়ে যাওয়ার বাস নেই বলে পুলিশ আপাতত গ্রেফতার করা বন্ধ রেখেছে। তারা অপেক্ষা করছে কখন আরও বাস আসবে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলছে।"
https://twitter.com/_YogendraYadav/status/1207547978723913728
দিল্লিতে মান্ডি হাউসের কাছে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন বাম নেতা ডি রাজা, সীতারাম ইয়েচুরি, নীলোৎপল বসু এবং বৃন্দা কারাত। একাধিক বিক্ষোভ মিছিল বেরোনর ফলে দিল্লিতে দেখা দিয়েছে যানজট। শহরের নানা রাস্তা পুলিশ ব্যারিকেড করে বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক রাস্তায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শহরের কয়েকটি এলাকায় বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।
সেন্ট্রাল দিল্লিতে লালকেল্লার কাছ থেকে এদিন একটি মিছিল বার হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই পুলিশ সেখানে জারি করেছে ১৪৪ ধারা। মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য যাঁরা সেখানে এসেছিলেন, তাঁদের আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শহরে যে গাড়িগুলি ঢুকছে তাদের ওপরে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশের সন্দেহ, গাড়িতে চড়ে বাইরে থেকে বিক্ষোভকারীরা দিল্লিতে ঢুকতে চাইবে।
বুধবারই কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে জারি হয়েছিল ১৪৪ ধারা। বিক্ষোভকারীদের মিছিল, বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে টাউন হলের সামনে বিক্ষোভ মিছিলে সামিল হলে ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহকে আটক করে পুলিশ। আটক করা হয় আরও কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে।
আটক হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রামচন্দ্র গুহ বলেন, “দেশে কি স্বৈরতন্ত্র চলছে? আমার হাতে গান্ধীজির পোস্টার দেখে এবং সংবাদমাধ্যমকে সংবিধানের বিষয়ে বলার জন্য আটক করা হল।” ইতিহাসবিদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবেই প্রতিবাদ করা হচ্ছিল। কোনও হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা হয়নি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের সম্মতি পেয়েই পুলিশ এমন কাজ করেছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলা হয়েছে। বিপর্যস্ত দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।