পুলওয়ামাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড মুদাসিরের ঘনিষ্ঠ নাভিদ বাবু, সেনা কনভয়ে ফিদায়েঁ হামলার পরিকল্পনাতেও সামিল ছিল
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে আত্মঘাতী হামলায় জড়িত ছিল হিজবুল কম্যান্ডার নাভিদ বাবু। এমন তথ্যই দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্তকারীদের রিপোর্ট বলছে, উপত্যকায় বিভিন্ন সময় জঙ্গি নাশকতার মাথা এবং পুলওয়ামাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ম
শেষ আপডেট: 29 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে আত্মঘাতী হামলায় জড়িত ছিল হিজবুল কম্যান্ডার নাভিদ বাবু। এমন তথ্যই দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্তকারীদের রিপোর্ট বলছে, উপত্যকায় বিভিন্ন সময় জঙ্গি নাশকতার মাথা এবং পুলওয়ামাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড মুদাসির ওরফে মহম্মদ ভাটের ঘনিষ্ঠ ছিল এই নাভিদ বাবু। গোয়েন্দাদের অনুমান, সেনা কনভয়ে হামলার ছক সাজানোর পিছনে নাভিদেরও মাথা ছিল। এই নাভিদ বাবুকেই জম্মু-কাশ্মীর হাইওয়ে থেকে ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে পাকড়াও করে পুলিশ।
দক্ষিণ ও মধ্য কাশ্মীরের হিজবুল মাথা নাভিদ বাবু। উপত্যকায় একাধিক বিস্ফোরণ ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত সে। জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদের পরে ভিন্ রাজ্যের ১১ জন শ্রমিক হত্যার মূল অভিযুক্তই ছিল এই হিজবুল কম্যান্ডার। পুলিশের কাছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, পুলওয়ামার নানা জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল নাভিদের। জাদুরা, নিওয়া-পাখেরপোরাতেও আইডি জমা করার কাজ চলছিল। দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী এলাকা, পঞ্জাবেও নাশকতার ছক কষা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকই সেদিন পাচার করার কাজ করছিল নাভিদ। আর তাকে নিরাপদে দিল্লি পৌঁছে দেওয়ার বরাত নিয়েছিলেন পুলিশকর্তা দেবেন্দ্র সিং।
এনআইএ জানিয়েছে. গত বছর ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামার সেনা কনভয়ে আত্মঘাতী হামলার পিছনেও হাত থাকতে পারে এই হিজবুল কম্যান্ডারের। কারণ তথ্য বলছে, জইশ কম্যান্ডার মুদাসির খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল নাভিদের। জইশ শিবিরে অস্ত্র পাচারের কাজও করেছিল নাভিদ। সেই হামলায় নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছিল যে ফিদায়েঁ জঙ্গি আদিল আহমেদ দার তার সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল নাভিদের।
২০১৮ সাল থেকে উপত্যকায় জইশ নাশকতার অন্যতম মাথা হয়ে দাঁড়ায় মুদাসির ওরফে মহম্মদ ভাট। গোয়েন্দারা মনে করছে, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে সুনজওয়ানের সেনা ঘাঁটিতে হামলার নেপথ্যে ছিল মুদাসিরই। সেই হামলায় ছ’জন সেনা জওয়ানের পাশাপাশি এক গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে হামলারও ছক কষে মুদাসির। সূত্র বলছে, ফিদায়েঁ জঙ্গি আদিল আহমেদ দারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত সে। পুলওয়ামা হামলার তিন মাস আগে থেকেই আদিলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল। সেই কাজে সক্রিয় ভূমিকা ছিল মুদাসিরের। এই মুদাসিরের সঙ্গে কীভাবে আঁতাত তৈরি হল নাভিদ বাবুর সেই তথ্যই খুঁজে বার করার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।
জম্মু-কাশ্মীর হাইওয়ে ধরে দিল্লির পথে যাওয়ার সময় প্রাক্তন ডিএসপি দেবেন্দ্র সিংয়ের আই-১০ গাড়িতে তাঁর পাশেই বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল এই নাভিদ বাবুকে। নাভিদের সঙ্গেই দেবেন্দ্র ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে ধরা পড়েছে হিজবুলের আরও সক্রিয় সদস্য রফি রাঠৌর এবং গাড়ির চালক কাশ্মীরের এক আইনজীবী, হিজবুলের সদস্য ইরফান শফি মীর। গোয়েন্দাদের অনুমান, হিজবুলের এই দুই সদস্যের সঙ্গেও জইশ শিবিরের ঘনিষ্ট যোগাযোগ ছিল। পুলিশ অফিসারের ফোন ট্র্যাক করে জঙ্গিদের সঙ্গে তাঁর গোপন কথাবার্তা ও ঘুষ নেওয়ার কথা জানতে পেরে গিয়েছিলেন শোপিয়ানের পুলিশ সুপার সন্দীপ চৌধুরী। তারপর থেকেই গোয়েন্দাদের কড়া নজরে ছিলেন দেবেন্দ্র সিং। জঙ্গিদের নিয়ে দিল্লি যাওয়ার ছক সামনে আসার পরেই জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিআইজি অতুল গয়ালের নেতৃত্বে তৈরি হয় অপারেশন ব্লু-প্রিন্ট। জম্মু পুলিশের বিশ্বস্ত অফিসারদের নিয়ে তৈরি হয় বিশেষ টিম। হাইওয়ের একটি টানেলের ভিতর আটকানো হয় দেবেন্দ্র গাড়ি। জঙ্গি ও অস্ত্রসমেত ধরা পড়েন পুলিশ অফিসার।