
শেষ আপডেট: 18 December 2019 18:30
আটক হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রামচন্দ্র গুহ বলেন, “দেশে কি স্বৈরতন্দ্র চলছে? আমার হাতে গান্ধীজির পোস্টার দেখে এবং সংবাদমাধ্যমকে সংবিধানের বিষয়ে বলার জন্য আটক করা হল।” ইতিহাসবিদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবেই প্রতিবাদ করা হচ্ছিল। কোনও হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা হয়নি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের সম্মতি পেয়েই পুলিশ এমন কাজ করেছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলা হয়েছে। বিপর্যস্ত দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
এদিন সকাল থেকেই জাতীয় রাজধানী এলাকায় জায়গায় জায়গায় ব্যারিকেড করে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। সকাল থেকে তীব্র যানজট ছিল দিল্লি-গুরুগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়কে। রেড ফোর্টের কাছে কোনও বড় জমায়েত করা যাবে না সেটা আগেই জানিয়ে দিয়েছিল পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের মিছিল রুখতে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশবাহিনী। বিক্ষোভে যোগ দিয়ে এদিন আটক হয়েছেন স্বরাজ ইন্ডিয়া-র সর্বভারতীয় সভাপতি যোগেন্দ্র যাদবও। টুইটার বার্তায় তিনি বলেছেন, “নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করায় লালকেল্লার সামনে থেকে আমাকে আটক করেছে পুলিশ। আর হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলাম। ছাত্র, লেখক, সমাজকর্মী সকলেই সামিল হয়েছিলেন এই প্রতিবাদ মিছিলে। সবাইকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ।”
https://twitter.com/_YogendraYadav/status/1207549562686017537?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1207549562686017537&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.ndtv.com%2Fdelhi-news%2Fcitizenship-amendment-act-yogendra-yadav-tweets-detained-from-red-fort-1-000-protesters-already-deta-2151199
লালকেল্লার সামনে পরিস্থিতিও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভ রুখতে গেলে জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। দিল্লির মান্ডি হাউস চত্বরেও পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে র্যাফ নামানো হয়। এখান থেকেও বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, মথুরা রোড-কালিন্দি কুঞ্জ রোডে ট্রাফিক চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নয়ডা থেকে দিল্লি যেতে হলে অক্ষরধাম রোড ধরে ডিএনডি ফ্লাইওয়ে ধরে যেতে হবে। তালা পড়েছে প্রায় ১৮টি মেট্রো স্টেশনেও। ডিএমআরসি জানিয়েছে, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, জাসোলা বিহার, শাহিন বাগ, পেটাল চক, লোক কল্যাণ মার্গ, উদ্যোগ ভবন, আইটিও, প্রগতি ময়দান, খান মার্কেট, মুনির্কা স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল পূর্ব দিল্লির সীলমপুরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মিছিল আটকালে অশান্তি শুরু হয়। হাজার হাজার মানুষ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। গাড়ি, বাস ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে চলে ইটবৃষ্টি। গোলমাল থামাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। লাঠি চালায়। তড়িঘড়ি জোহরি এনক্লেভ, শিববিহার-সহ মোট সাতটি মেট্রো স্টেশনের দরজা বন্ধ করে দেয় দিল্লি মেট্রো রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ করে দেওয়া হয় সিলামপুর-জাফরবাদের রাস্তাও। জাফরবাদেও জমায়েত হয় বহু সাধারণ মানুষ। আজও থমথমে পরিস্থিতি ছিল জামিয়া সংলগ্ন বাটলা হাউস, আবু ফজল, জকির নগর ও গফফর মঞ্জিলে। বন্ধ ছিল অধিকাংশ দোকানপাটই।