শেষ আপডেট: 28 March 2022 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের অনেক রাজ্যেই হিন্দুরা সংখ্যালঘু (Minorities)। ওই সব রাজ্যে হিন্দুদেরও সংখ্যালঘুর মর্যাদা দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এই দাবি জানিয়ে মামলা করেছেন আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, হিন্দুরা যেখানে সংখ্যাগুরু সেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা পান। হিন্দুরা যে রাজ্যগুলিতে সংখ্যালঘু সেখানে তাদের সেই সুবিধা প্রাপ্য।
শুধু তাই নয়, অনেক রাজ্যের কিছু জেলাতেও ধর্মীয় সংখ্যালঘু হল হিন্দুরা। যেমন, পশ্চিমবঙ্গে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর, তিন জেলায় সংখ্যাগুরু হল মুসলিমরা।
যে রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলিতে হিন্দুরা সংখ্যালঘু তারমধ্যে আছে, লাক্ষাদ্বীপ (২.৫%), মিজোরাম (২.৭৫%), নাগাল্যান্ড (৮.৭৫%), ঝাড়খণ্ড (২৮.৪৫), অরুণাচল প্রদেশ (২৯%), মণিপুর (৩১.৩৯%,) এবং পাঞ্জাব (৩৮.৪%)।
এই মামলার সূত্রে সামনে এসেছে, সংখ্যালঘুর সংখ্যা নির্ধারণের প্রশ্নটি। সংবিধানে খুব স্পষ্ট করে সংজ্ঞা বলা নেই। সংবিধানে ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রত্যেক ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘুর নিজেদের ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ইত্যাদি সুরক্ষিত রাখার পূর্ণ অধিকার আছে। ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদে সংখ্যালঘুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, পরিচালনার অধিকার দেওয়া হয়েছে। সেখানে সরকার নাক। গলাতে পারে না। এছাড়া জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গোটা দেশের নিরিখে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্ধারণ করেছে।
সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, রাজ্যগুলি নিজেরাও চাইলে জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু নির্ধারণ করতে পারে। বস্তুত অনেক রাজ্য সেই অধিকার বলেই বিভিন্ন সময় সংখ্যালঘু তকমা দিয়েছে। যেমন, পশ্চিমবঙ্গে বাম জমানার শেষ দিকে জৈনদের সংখ্যালঘু হিসাবে মান্যতা দেওয়া হয়। আগে থেকেই মুসলিম, বৌদ্ধ, খিস্টান, শিখরা সংখ্যালঘুর মর্যাদা পেয়ে আসছে। ভারত সরকার এই কয়টি ধর্মীয় গোষ্ঠীকেই সংখ্যালঘু হিসাবে ঘোষণা করেছে।