
শেষ আপডেট: 30 October 2023 17:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্লাস ইলেভেন থেকেই রাজ্যের স্কুলগুলিতে চালু হবে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ও ডেটা সায়েন্স, এমনটাই জানিয়েছিল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এ বছরের পাঠ্যক্রম থেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্সের মতো বিষয়গুলি পড়ানো শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের বোঝার মতো সহজ বই বা তথ্য না থাকায়, ক্লাস শুরু হলেও বিষয়গুলো পড়ানো শুরু হয়নি। সংসদের তরফে আজ সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, ওই দুটি বিষয়তেই সহজবোধ্য তথ্য ও প্রশ্নপত্র আপলোড করা হচ্ছে সংসদের ওয়েবসাইটে। পঠনপাঠনে আর কোনও সমস্যা থাকবে না।
সংসদের তরফে উচ্চ মাধ্যমিকের বিজ্ঞান শাখার পাঠ্যসূচিতে আগেই বেশ কিছু বদল আনা হয়েছিল, যার ফলে দেখা গিয়েছে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ডের ছাত্রছাত্রীরা বেশ ভাল ফল করেছে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ জানিয়েছে, শেষ কিছু বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্সের মতো বিষয়গুলির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। আর তাই জন্যই উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ডের ছাত্রছাত্রীদের স্কুলস্তর থেকেই এই বিষয়গুলি নিয়ে পড়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় সরকারি বোর্ডের অধীনস্থ স্কুলগুলি ইতিমধ্যেই এই বিষয়গুলি পড়ানো শুরু করে দিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস্ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেছেন, “উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাসে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ও ডেটা সায়েন্সের মতো দুটো নতুন বিষয়ের সংযোজন হয়েছে। ওই দুই বিষয়ে পড়ানোর জন্য সিলেবাস অনুযায়ী কিছু তথ্য ও প্রশ্নপত্র আমরা সংসদের ওয়েবসাইটে আপলোড করছি। নতুন সাবজেক্টের জন্য শিক্ষক এখনও নিয়োগ করা হয়নি। কম্পিউটার সায়েন্স ও কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের শিক্ষকদের ওই দুই বিষয় পড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।”
চন্দনবাবু বলছেন, আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ও ডেটা সায়েন্সের মতো বিষয় নতুন এসেছে। তাই নতুন সাবজেক্ট নিয়ে ছেলেমেয়েদের পড়ানোর জন্য শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে শিক্ষকদের ট্রেনিং চলছে। আগামী নভেম্বরে আরও একটা ট্রেনিং আছে। যতদিন না ট্রেনিং শেষ হচ্ছে ততদিন আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ও ডেটা সায়েন্স সংক্রান্ত কিছু তথ্য, সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র সংসদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। সেখান থেকে দেখে নতুন বিষয় দুটিতে ছাত্রছাত্রীরা কিছু ধারণা করতে পারবে।
সংসদ আগেই জানিয়েছিল, পাঠ্যক্রমের এই রদবদলের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হবে। এ ছাড়াও, এই পরিবর্তনের জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দক্ষতার উন্নতিসাধনেরও প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে চন্দন মাইতি আরও বলেন, “পাঠ্যক্রম রদবদলের পরে তিন-চার মাস ক্লাস হয়ে গেছে। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ও ডেটা সায়েন্সের ব্যাপারে তেমন কিছুই জানতে পারেনি। তাই শিক্ষা সংসদের তরফ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে আমাদের দাবি, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এই তথ্যগুলোকে একত্রিত করে বই বের করুক। প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে ইন্টারনেট নেই বা পড়ুয়ারা কম্পিউটারের সুবিধা পায় না, সেখানে বইই একমাত্র মাধ্যম। তাই যত দ্রুত সম্ভব এই দুটি বিষয়ের উপর বই করার আর্জি জানাচ্ছি আমরা।”