
শেষ আপডেট: 14 November 2023 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে এক ধাক্কায় বাতিল হয়েছে ২৫৩ টি বিএড কলেজের অনুমোদন। গত শুক্রবার সেই সিদ্ধান্তের পরই তরজা তুঙ্গে। উচ্চশিক্ষা দফতরের অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে জোর চর্চা। কেন এতগুলি কলেজের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে তা নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সোমবার এনিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মাঝে ঠিক কতগুলি কলেজের অনুমোদন বাতিল করেছে বিএড বিশ্ববিদ্যালয় সে সম্পর্কে জানানো হয়নি বলেই দাবি উচ্চশিক্ষা দফতরের।
কোনও কলেজের পরিকাঠামো নেই, কোনও কলেজে আবার পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা বা পড়ুয়া নেই। এমন নানা কারণেই রাজ্যের ২৫৩টি বিএড কলেজের অনুমোদন বাতিল হয়েছে। যার জেরে এখন রাজ্যে বিএড কলেজের সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৩৭১। সোমবার এই বিষয়েই সাংবাদিক বৈঠক করলেন পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তবর্তীকালীন উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতির জন্য সরাসরি উচ্চশিক্ষা দফতরকেই দুষেছেন সোমাদেবী।
অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য জানিয়েছেন, গত ৩রা অগস্ট কী কী কারণের জন্য বিএড বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন বাতিল করবে সেবিষয়ে উচ্চশিক্ষা দফতরকে বলা হয়েছিল। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে সেই নথিও তিনি প্রকাশ্যে আনেন। উচ্চশিক্ষা দফতর অবশ্য সেই চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছে। তবে ঠিক কতগুলি কলেজের অনুমোদন বাতিল করেছে বিএড বিশ্ববিদ্যালয় সে সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে দফতরকে জানানো হয়নি বলেই দাবি উচ্চশিক্ষা দফতরের কর্তাদের।
নিয়ম অনুযায়ী, বেসরকারি বিএড কলেজ হতে গেলে উচ্চশিক্ষা দফতরের “নো অবজেকশন সার্টিফিকেট” এর প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে শুধু কলেজের নামই নয়, কোন কোন কলেজের কী কী পরিকাঠামোগত সমস্যার জন্য অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে সেবিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য উচ্চশিক্ষা দফতরের কাছে ছিল না, এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের।
একদিকে যেমন বিএড কলেজের অনুমোদন বাতিল উচ্চশিক্ষা দফতর সবকিছু জানত বলেই দাবি করেছেন উপাচার্য, অন্যদিকে অনুমোদন বাতিলের সিদ্ধান্তের কোনও দায় নিতেই রাজি নয় শিক্ষা দফতরও। আর তা নিয়েই কার্যত চলছে তরজা। এদিকে এতগুলি বিএড কলেজের অনুমোদন বাতিলের জেরে ২০২৩-২৫ শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়াদের ভর্তি ঘিরে শুরু হয়েছে টানাপড়েন, যার জেরে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ ঘিরেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।