
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 27 March 2025 18:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে প্রয়োজনে বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, 'যাদবপুরে কোনও রাজনৈতিক নেতা বা গুরুত্বপূর্ণ কাউকে নিয়ে কোনও সেমিনার, মিটিং করা যাবে না'। বহিরাগত প্রশ্নেও এদিন বড় নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষে ওয়েবকুপার সভাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সভায় গেলে বিক্ষোভ দেখায় একাংশ পড়ুয়া। অভিযোগ, মন্ত্রীর গাড়িতে হামলাও চালানো হয়। বনেটে লিখে দেওয়া হয় ‘ব্রাত্য বসু চোর‘! সে সময় ঘেরাও হঠাতে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে চালক গাড়ি চালিয়ে দিলে গাড়ির ধাক্কায় দুই ছাত্র জখম হন বলে অভিযোগ। এক ছাত্রর গায়ের ওপর দিয়ে গাড়ি চালানোর অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।
ওই ঘটনায় যাদবপুরে পুলিশ ক্যাম্প বসানোর আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। ওই মামলাতেই এদিন পরোক্ষে ওয়েবকুপা এবং শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। মামলার সওয়াল জবাব পর্বে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, 'যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় জানা ছিল তাহলে কেন রাজনৈতিক নেতা সেখানে যাওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন। এটার প্রভাব পড়বে জেনেও তিনি কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেন স্পষ্ট নয় আদালতের কাছে'।
এ সময় রাজ্যের তরফে আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, 'যাদবপুরে গুন্ডা রাজ চলছে। ২০১৪ পর শ্লীলতাহানির মামলা রুজু হয়েছিল। একাধিক এফআইআর হয়। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।"
এমনকী যাদবপুর কাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি বলেন, "বশ মানে না এমন ঘোড়া ছুটে বেড়াচ্ছে যাদবপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে। যা নির্দেশ দেবেন মাথা পেতে নেব শুধু শান্তি চাই। ইউনিভার্সিটি কিছু করছে না। আমরা নিরুপায়।"
যাদবপুর নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক প্রস্তাব নিয়েছে রাজ্য। তার মধ্যে কোনগুলি প্রয়োগ করা হয়েছে, রাজ্যের কাছে তা জানতে চান প্রধান বিচারপতি। একই সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে আদালতের প্রশ্ন, "বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের কোন ক্ষমতা থাকে না। তাদের হাতে কোনও অস্ত্র থাকে না। তাহলে রাজ্যের পুলিশের সাহায্য আপনারা নিতে চান না কেন?"
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী রিজু ঘোষাল বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে টাকার জন্য উচ্চ শিক্ষা দফতরকে চিঠি লেখা হয়েছে। এরপরই প্রধান বিচারপতির নির্দেশ, "প্রয়োজনে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করুন। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয়, আগে তাদের বের করতে হবে।"