
শেষ আপডেট: 22 November 2023 17:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খড়্গপুর আইআইটির ছাত্র ফাইজান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় কলেজের ভূমিকা যথেষ্ট সন্দেহজনক। এমনই পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের। সংশ্লিষ্ট মামলায় পড়ুয়ার মৃত্যুর রহস্যের কিনারা করতে সিট গঠন করেছিল হাইকোর্ট। সেই সিটের প্রধান জয়রামনের নেতৃত্বাধীন দলের উদ্দেশে বুধবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বলেন, "তদন্ত যেভাবে চলছে তাতে তথ্য প্রমাণ লোপাট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।''
ইতিমধ্যে ঘটনাটিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (সিএফএসএল)-র রিপোর্ট জমা পড়েছে। আর সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত সিট কী তদন্ত করেছে তা জানতে চায় হাইকোর্ট। কিন্তু সিটের তদন্তের অগ্রগতি দেখেই এদিন উষ্মা প্রকাশ করে উচ্চ আদালত। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাস জানায়, "এত ধীর গতিতে যদি তদন্ত চলতে থাকে তাহলে তদন্ত কবে শেষ হবে তাও স্পষ্ট হচ্ছে না।“
এদিন সিট এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে বেশ কিছু সন্দেহভাজন ছাত্রের নাম পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কলেজ তা অনুমোদন করেনি। পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন ছাত্রদের পরীক্ষা চলছে। তাই তাদের এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না। আগামী ২৫ নভেম্বর সিট ওই সকল সন্দেহভাজন ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে এদিন হাইকোর্টে জানায়।
অন্যদিকে, আইআইটি খড়গপুর কর্তৃপক্ষের তরফে আইনজীবী অনিন্দ্য মিত্র আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, সিঙ্গেল বেঞ্চের মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের হয়েছে। যদিও বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত তাতে আমল দেননি। এ প্রসঙ্গে তাঁর পর্যবেক্ষণ, "এতদিন ধরে একটা খুনের তদন্তে অযথা সময় নষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে তথ্য প্রমাণ লোপাট হতে পারে। এর দায় কে নেবে! আইআইটি কেন আপত্তি করছে তাও অজানা।'' এরপরই আগামী ১৮ ডিসেম্বর সন্দেহভাজন ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সিটকে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সেনগুপ্ত।
আসাম থেকে খড়গপুর আইআইটিতে পড়তে এসেছিলেন ফাইজান আহমেদ। গত বছরের ১৪ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট আইআইটির লালা লাজপত রায় হলের একটি ঘর থেকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারের তৃতীয় বর্ষের ওই ছাত্রের দেহ উদ্ধার হয়। কীভাবে মৃত্যু হল ফাইজানের, সেই নিয়ে রহস্য দানা বাঁধে। পরিবারের লোকজন খুনের অভিযোগ তোলেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করে খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ। মামলা হয় হাইকোর্টে। আত্মহত্যা না খুন, খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয় আদালত।