
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 December 2024 15:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মন্দারমণির 'বেআইনি' হোটেল-রিসোর্ট ভাঙার নির্দেশে যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট তার মেয়াদ আরও বাড়ানো হল। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না বলে জানিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এমনই নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
এনজিটি'র নির্দেশ কার্যকর করতে মন্দারমণির একাধিক হোটেল-রিসোর্ট ভাঙতে নোটিস দিয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক। সেই বিষয় নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানান, মন্দারমণিতে কোনও বুলডোজার চলবে না। তারপরই তাৎপর্যপূর্ণভাবে কলকাতা হাইকোর্ট এই ইস্যুতে স্থগিতাদেশ জারি করে।
কেন্দ্রীয় পরিবেশ আদালতে মন্দারমণির হোটেল নিয়ে একাধিক অভিযোগ করা হয়েছিল। উঠেছিল বেআইনি হোটেলের ইস্যুও। তার প্রেক্ষিতেই মন্দারমণির ১৪০টি হোটেল ভেঙে ফেলা হবে বলে নোটিস জারি করেছিল জেলা প্রশাসন। স্বাভাবিকভাবেই হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা চিন্তায় পড়ে গেছিল এই নির্দেশ শুনে। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসবার্তা এবং হাইকোর্টের নির্দেশ জানার পর তাঁরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশ শোনার পরই রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। প্রশাসনের এক কর্তার বক্তব্য ছিল, মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনা না করে জেলা প্রশাসন একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেটা নিয়েই রীতিমতো ক্ষুব্ধ ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই অবিলম্বে জেলা প্রশাসনকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের নির্দেশও দেন।
এই মামলার গত শুনানিতে স্থগিতাদেশের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। মঙ্গলবার অবশ্য তিনি অনুপস্থিত থাকায় এই ব্যাপারে নির্দেশ দেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। আগামী ১৭ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
মন্দারমণির হোটেলগুলি নিয়ে ঠিক কী অভিযোগ? দাবি করা হয়েছে, সমুদ্রের পারে হোটেল বা রিসর্ট বানাতে গিয়ে অনেকেই নিয়মের পরোয়া না করে মনমতো বেআইনি নির্মাণ তৈরি করছেন। এই কারণেই কুপ্রভাব পড়ছে পরিবেশে। এই কারণেই প্রায় ১৪০টির বেশি হোটেল ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।