দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লির দাঙ্গা নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন প্রাক্তন আমলা হর্ষ মান্দার। তার শুনানির সময় বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের ভাষণের রেকর্ড বাজিয়ে শোনাতে বলল হাইকোর্ট। অশান্তি শুরু হওয়ার ঠিক আগে কপিল মিশ্র উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা বুধবার কোর্টে শোনানো হয়।
হর্ষ মান্দার আদালতে আবেদন করেছিলেন, হিংসার ঘটনা নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্ত হোক। অপরাধীদের বিরুদ্ধে এফ আই আর করা হোক। উপদ্রুত এলাকায় সেনা নামানো হোক। দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। বিচারপতি এস মুরলীধর ও বিচারপতি তালওয়ান্ত সিংকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ সেই আবেদন শোনে। পরে দিল্লি পুলিশের হয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁকে বিচারপতিরা বলেন, আপনি দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে পরামর্শ দিন, উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়ার জন্য তিন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হোক।
তুষার মেহতা আবেদন করেন, "এবিষয়ে শুনানি কি ১৬ ঘণ্টার জন্য মুলতবি রাখা যেতে পারে?" বিচারপতি মুরলীধর বলেন, "দোষীদের বিরুদ্ধে কি অবিলম্বে এফ আই আর করা উচিত নয়? শহরের যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা মোটেই সন্তোষজনক নয়।"
এরপরে বিচারপতি কপিল মিশ্রের উস্কানিমূলক ভাষণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "ওই বিজেপি নেতার ভাষণের ভিডিও শত শত মানুষ দেখেছেন। আপনি কি এর পরেও মনে করেন, ব্যাপারটা জরুরি নয়?"
এক পুলিশকর্মী হাইকোর্টে বলেন, তিনি হিংসার কয়েকটি ভিডিও দেখেছেন। কিন্তু কপিল মিশ্রের ভাষণের ভিডিও দেখেননি। বিচারপতিরা বলেন, "ব্যাপারটা খুবই উদ্বেগজনক। আপনাদের অফিসে অনেকগুলি টিভি আছে। এক পুলিশ অফিসার কেমন করে বলতে পারেন, তিনি ওই ভিডিও দেখেননি? দিল্লি পুলিশের অবস্থা সত্যিই শোচনীয়।" এর পরেই বিচারপতি এস মুরলীধর নির্দেশ দেন, কপিল মিশ্রের ভাষণের ভিডিও শোনানো হোক।
এর মধ্যে মৃত্যু মিছিল বেড়েই চলেছে দিল্লিতে। সিএএ সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষে আগুন জ্বলছে রাজধানীর উত্তর-পূর্বে। ইতিমধ্যেই এই সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। প্রায় ২০০ মানুষ আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। এই পরিস্থিতিতে আসরে নেমেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। উত্তর-পূর্ব দিল্লির সংঘর্ষের এলাকায় গেলেন তিনি। সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন ডোভাল।
দিল্লির এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রও। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর কেরল সফর বাতিল করেছেন। দফায় দফায় বৈঠকও করছেন তিনি। সেই বৈঠকে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে কোনও দোষী যেন ছাড় না পায়। ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার (আইনশৃঙ্খলা) পদে আনা হয়েছে এসএন শ্রীবাস্তব নামে এক আইপিএস কর্তাকে। তাঁর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন শাহ।