রাজনৈতিকমহলের একাংশের মতে, দলবদল-উত্তর পরিস্থিতিতে হুমায়ুনের এই মন্তব্য ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ইঙ্গিতও বহন করছে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 5 December 2025 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের বেলেডাঙায় (Beldanga , mosque) গত কয়েক দিন ধরে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা কার্যত কাটাল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) ঘোষিত মসজিদের শিলান্যাসে কোনও বাধা নয়, বরং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্যের প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
হাইকোর্টের এই রায়ের পরই হুমায়ুন কবীরের প্রতিক্রিয়া তাৎপর্যপূর্ণ। নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশকারী মহলের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, “আল্লা আমার সঙ্গে আছেন। আল্লা যাদের সঙ্গে থাকেন, মানুষও তাঁদের সঙ্গ দেয়।”
রাজনৈতিকমহলের একাংশের মতে, দলবদল-উত্তর পরিস্থিতিতে হুমায়ুনের এই মন্তব্য ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ইঙ্গিতও বহন করছে।
গত বৃহস্পতিবার বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলে গিয়ে সাসপেন্ড হওয়ার খবর কথা জানতে পেরে মুহূর্তেই সভা থেকে বেরিয়ে যান হুমায়ুন। সে দিনই নতুন দল গঠনের কথা ঘোষণা করেন, জানান—শুক্রবারই দেবেন বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা। এর মাঝেই ৬ ডিসেম্বর বেলেডাঙায় মসজিদের শিলান্যাসের কর্মসূচি ঘিরে ওঠে বিতর্ক। অভিযোগ ছিল, এই উদ্যোগে এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতে গড়ায় মামলা।
হাইকোর্ট এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—মসজিদ নির্মাণ অসাংবিধানিক নয়, তাই কর্মসূচিতে কোনওভাবেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রাজ্যের প্রশাসনের। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কর্মসূচি বন্ধ করার কোনও যুক্তি নেই।”
নিজের অবস্থানে অটল হুমায়ুন বলেন, “গত বছরের ১২ ডিসেম্বরই মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা করেছিলাম। বহু বাধা, বহু বিতর্কের পর অবশেষে সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। আদালত জানিয়েছে, কোনও বেআইনি কাজ করছি না।”
তিনি আরও জানান, ৬ ডিসেম্বর ইসলাম ধর্মের কাছেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন, কারণ সেদিন কোরাণের ১৪৫০ বছর পূর্তি। সেই দিনেই হবে শিলান্যাস, তাই তাঁর মতে এটি ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক—দু’দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ।
হাইকোর্টের রায়ের পর এবার দায়িত্ব বাড়ল প্রশাসনের। ৬ ডিসেম্বর যাতে কোনও অশান্তি বা উত্তেজনা না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতেই প্রস্তুত হতে হবে পুলিশ-প্রশাসনকে। আদালতের বার্তা একটাই—অনুষ্ঠান চলবে, সমাজে শান্তিও বজায় রাখতে হবে।