
নবান্নের তরফে পাঠানো সেই নির্দেশিকা।
শেষ আপডেট: 19 September 2024 19:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজের নিরাপত্তা, সুরক্ষায় কী কী করতে হবে তার তালিকা তৈরি করে স্বাস্থ্যসচিবকে পাঠালেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নবান্নের তরফে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনে। সেখানে প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ ও সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা কর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় স্বাস্থ্য দফতরকে দশটি পয়েন্ট উল্লেখ করে তা দ্রুত রূপায়ণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি মেনে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে সরিয়ে দিয়েছে রাজ্য। বদল আনা হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ দুটি পদেও। এরপরও মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতালের নিরাপত্তা-সুরক্ষার দাবিতে কর্মবিরতিতে অনড় রয়েছেন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা।
বুধবার নবান্নে মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকেও তাঁরা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলির অভ্যন্তরের নিরাপত্তা-সুরক্ষার প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁদের কথায়, "যেভাবে গত ৯ অগস্ট আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রীকে ধর্ষণ-খুনের শিকার হতে হয়েছে তারপরও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা না করলে কোন ভরসায় তাঁরা কাজে ফিরবেন।"
সেদিক থেকে নবান্নের এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। মুখ্যসচিবের তরফে স্বাস্থ্যসচিবকে পাঠানো নির্দেশিকায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা-সুরক্ষা এবং পরিকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে।
নবান্নের তরফে স্বাস্থ্য দফতরকে পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে পর্য়াপ্ত সংখ্যক সিসিটিভি, পানীয় জলের ব্যবস্থা, শৌচালয়, বিশ্রাম কক্ষ, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা যত দ্রুত সম্ভব করতে হবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও দ্রুত গড়ে তুলতে হবে।
সরকারি হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থকে বিশেষ দায়িত্ব দিচ্ছে রাজ্য।
নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ কিটি গড়তে হবে। ওই কমিটি অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখবে। প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষ অ্যালার্ম সিস্টেম চালু করার কথাও বলা হয়েছে। যাতে কেউ কোনও বিপদে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য পেতে পারেন। কোথায় কতগুলি বেড রয়েছে, কতগুলি প্রয়োজন তার বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে দ্রুত রূপায়ণ করতে হবে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীদের শূন্য পদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত তা পূরণ করতে হবে।
অর্থাৎ যে দাবিগুলি আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা জানাচ্ছিলেন তা দ্রুত পূরণের কথা বলা হয়েছে নবান্নের নির্দেশিকায়। এখন দেখার, সরকারি এই নির্দেশিকার পর জুনিয়র চিকিৎসকরা কাজে ফেরেন কিনা।