
শেষ আপডেট: 21 June 2020 18:30
কোভিফোর ও সিপ্রেমি
অ্যান্টিভাইরাল রেমডেসিভিরেরই দুই জেনেরিক ভার্সন। গিলিয়েড সায়েন্সেসের তৈরি রেমডেসিভির করোনা সংক্রমণ কমাতে পারছে বলেই দাবি করেছে মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেসসিয়াস ডিজিজ। গিলিয়েড রেমডেসিভিরের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাচ্ছে। সেই ট্রায়ালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ওষুধের প্রয়োগে করোনা রোগীদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে ১১ দিনের মধ্যেই। সংক্রমণও কমছে।
নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ রেমডেসিভির আরএনএ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। সার্স-কভ-২ আরএনএ ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢুকলে দেহকোষে তাদের বাহক প্রোটিন ACE-2 এর সঙ্গে জোট বেঁধে সরাসরি কোষে ঢুকে যায়। একবার দেহকোষে ঢুকতে পারলেই সংখ্যায় বাড়তে থাকে এই ভাইরাস। প্রতিলিপি তৈরি করে এরা ছড়িয়ে পড়ে সারা শরীরেই। রেমডেসিভির এই প্রতিলিপি তৈরির প্রক্রিয়াকেই বন্ধ করে দেয়। গবেষকরা বলছেন, যতবেশি প্রতিলিপি বানিয়ে ভাইরাস তার সংখ্যা বাড়াবে, ততই তার জিনের গঠনের বদল হবে অর্থাৎ জেনেটিক মিউটেশন হতে থাকবে। আর ভাইরাস বিভাজিত হয়ে সংখ্যায় বাড়তে না পারলে সংক্রমণও ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। একটা পর্যায়ের পরে রোগীর শরীরেও ভাইরাসের সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।
ভারতে রেমডেসিভিরের ট্রায়াল প্রথম শুরু করে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। কম সংখ্যক রোগীদের এই ওষুধ দিয়ে ট্রায়ালের প্রাথমিক রিপোর্টে আইসিএমআর জানায়, এই ওষুধ প্রায় ৬৮% রোগীর শ্বাসের সমস্যা কম করছে।
গিলিয়েডের সঙ্গে চুক্তি করে ভারতে এই ওষুধের মূল উপকরণগুলি বানাচ্ছে কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)-এর অধীনস্থ ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজি ল্যাব। তাছাড়া সিপলা, হেটেরো ল্যাব ও জুবিল্যান্ট লাইফসায়েন্সেসে এই ওষুধের জেনেরিক ভার্সন তৈরি হচ্ছে। মৃদু ও মাঝারি সংক্রমণের করোনা রোগীদের শুধুমাত্র জরুরি অবস্থায় রেমডেসিভির ওষুধ দেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশের ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল ভিজি সোমানি। হেটেরো ল্যাব জানিয়েছে, রেমডেসিভিরের দুই ব্র্যান্ড সিপ্রেমি ও কোভিফোরের এক একটি ভায়ালের দাম পড়বে পাঁচ থেকে ছ’হাজার টাকা। সেখানে পাঁচদিনের কোর্সে ট্রিটমেন্টে খরচ হবে ৩০ হাজার টাকা। সিপলা এখনও ওষুধের দাম সম্পর্কে কিছু জানায়নি।
হেটোরো ল্যাব জানিয়েছে, এই ওষুধ রোগীদের শরীরে ইনজেক্ট করা হবে। প্রথম দিন ২০০ মিলিগ্রাম ডোজে ওষুধ দেওয়া হবে। এরপর টানা পাঁচদিন ১০০ মিলিগ্রাম করে করে ওষুধের ডোজ ইনজেক্ট করা হবে। তবে জরুরি ভিত্তিতেই করোনা রোগীদের এই ওষুধের ডোজ দেওয়া হবে। সঠিক নির্দেশিকা মেনে অভিজ্ঞ ডাক্তাররাই এই দুই ওষুধের থেরাপি করতে পারবেন।