দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহখানেক আগে হরিয়ানার সোনিপতে খুন হয়েছিলেন দুই পুলিশকর্মী। ঘটনার দিনই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিল এক দুষ্কৃতী। সোমবার ধরা পড়ল আরও ৫ জন। গ্রেফতারির পরে অপরাধ কবুলও করেছে তারা। আর এই সবটাই সম্ভব হয়েছে নিহত এক পুলিশের প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের জেরে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নিহত ওই কনস্টেবলের হাতে একটা সংখ্যা লেখা ছিল। তাই দেখেই এগিয়েছে তদন্ত, যাতে সাত দিনে সাফল্য মিলেছে। নিহত কনস্টেবল রবীন্দ্র সিংহকে মরণোত্তর পুরস্কার দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে হরিয়ানা পুলিশ।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে হরিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় কার্ফু জারি হয়েছে অনেক দিন ধরেই। সেই মোতাবেকই ডিউটি করছিলেন স্পেশ্যাল পুলিশ অফিসার কাপ্তান সিংহ এবং কনস্টেবল রবীন্দ্র সিংহ। ৩০ জুন, গত মঙ্গলবার সোনিপত-জিন্দ রোডের উপরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে মদ্যপান করা ৬ ব্যক্তিকে বাধা দিয়েছিলেন তাঁরা। তখনই ওই ৬ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের উপর আক্রমণ করে। এলোপাথাড়ি কোপে নিহত হন দু'জনেই। গুলিও চালান তাঁরা, গুলি লাগে এক দুষ্কৃতীর গায়ে। মারা যায় সে। গাড়ি করে চম্পট দেয় বাকি ৫ খুনি।
এর পরেই মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানোর সময়ে তদন্তকারীরা লক্ষ্য করেন, নিহত রবীন্দ্র সিংহের হাতের তালুতে কিছু অক্ষর ও একটি নম্বর লেখা আছে। ভাল করে খতিয়ে দেখে মালুম পড়ে, সেটি একটি গাড়ির নম্বর। বোঝা যায় মারা যাওয়ার আগে কোনও ভাবে নিজের হাতের তালুতে দুষ্কৃতীদের গাড়ির নম্বর লিখে রেখেছিলেন তিনি। সেই সূত্রেই খোঁজ চলে খুনিদের। সফলও হন তদন্তকারীরা।
সাত দিনের মধ্যেই ৫ দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হরিয়ানা পুলিশের তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নিহত কনস্টেবল রবীন্দ্র সিংহ যে ওই পরিস্থিতির মধ্যেও গাড়ির নম্বরটা লিখে রাখার মতো কাজ করতে পেরেছিলেন, তার তুলনা হয় না। এই উপস্থিত বুদ্ধি কুর্নিশযোগ্য। নম্বর না পেলে কোনও খোঁজই মিলত না দুষ্কৃতীদের।
হরিয়ানার পুলিশ প্রধান মনোজ যাদবও রবীন্দ্র সিংহর প্রশংসা করে বলেছেন, ‘‘এটাই পুলিশি দক্ষতা। মৃত্যুর আগেও তার পরিচয় দিয়েছেন কনস্টেবল রবীন্দ্র যাদব।"