দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বুধবার ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ঢুকে পড়েছিল পাকিস্তানের বিমান। বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের পালটা আক্রমণে একটি শত্রু বিমান ধ্বংস হয়। পরে পাকিস্তানের গোলায় তাঁর মিগ ২১ বিমানটি ভেঙে পড়ে। অভিনন্দন পাকিস্তানে বন্দি হন। সেদেশের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ‘শান্তির স্বার্থে’ তাঁকে তুলে দেন ভারতে। শুক্রবার রাতে তিনি ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে দেশে পা রাখেন। সারা দেশ বীরের সম্মান জানায় তাঁকে।
তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সচিন তেণ্ডুলকর টুইট করেছেন, হিরো মানে শুধু একটি চারটি অক্ষরের শব্দ নয়। এদেশে হিরো সাহস, আত্মত্যাগ ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বিসিসিআই থেকে টুইট করা হয়েছে, আপনি আকাশকে শাসন করেন। আপনার সাহস ও সম্মানবোধ পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
অভিনন্দন একসময় খাদাকাওয়াসালায় ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তিনি আগে সুখোই ৩০ যুদ্ধবিমান চালাতেন। পরে তাঁকে মিগ ২১ বাইসন স্কোয়াড্রনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাকিস্তানে বন্দি হওয়ার পরে তাঁর একটি ভিডিও প্রকাশ করে সেদেশের সরকার। তাতে দেখা যায়, তাঁর চোখ বাঁধা আছে। তিনি নিজের নাম ও সার্ভিস নম্বর উল্লেখ করছেন। পরে আর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিনন্দন চা পান করছেন। তিনি বলছেন, আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কর্মীরা ভদ্রলোক।
৩৮ বছর বয়সী অভিনন্দনের বাড়ি তামিলনাড়ুর তিরুভান্নামালাই জেলায়। তিনি পড়াশোনা করেছেন দিল্লিতে। তাঁর বাবা ছিলেন এয়ার মার্শাল সিমহাকুট্টি বর্তমান। তিনি ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। অভিনন্দনের ঠাকুরদাও ভারতের বায়ুসেনায় কাজ করেছেন। তাঁর মা শোভা পেশায় চিকিৎসক।
চেন্নাইতে অভিনন্দনের ধরা পড়ার খবর জানাজানি হতেই আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা তাঁর বাড়িতে ভিড় করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার মানুষ তাঁর নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করেন। কয়েকজন রাজনীতিক তাঁর সমর্থনে বিবৃতিও দেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যবর্ধন রাঠোর বলেন, নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন দেশের সেবা করেছেন।