দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরের শুরুতেই আশঙ্কার কথা শোনাল হু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিজ্ঞানীরা বলেছেন, গণ টিকাকরণ শুরু হলেও ২০২১ সালে কোভিডের বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে না। বিশ্ব জুড়ে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষত ইউরোপে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে সবচেয়ে দ্রুত হারে। সেজন্য ইউরোপের নানা দেশে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
হু-র চিফ সায়েন্টিস্ট সৌম্যা স্বামীনাথন সোমবার বলেন, করোনা অতিমহামারী ঠেকাতে এখনও সময় লাগবে। করোনায় এখনও পর্যন্ত বিশ্ব জুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ কোটি মানুষ। মারা গিয়েছেন ২০ লক্ষ। সৌম্যা স্বামীনাথন বলেন, "২০২১ সালে করোনার বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে না।" সেজন্য নতুন বছরেও তিনি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং মাস্ক পরার ওপরে জোর দিয়েছেন।
ভারতে টিকাকরণ শুরু হবে ১৬ জানুয়ারি থেকে। প্রথম ৩০ কোটিকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রথমে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী তথা কোভিড ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের (পুলিশ, পুরসভার কর্মীরা) টিকা দেওয়া হবে। এর পরে প্রবীণ ও কোমর্বিডিটির রোগীরা টিকার অগ্রাধিকার পাবেন। ৫০ বছরের কম যাঁদের শরীরে ক্রনিক রোগ রয়েছে তাঁদেরও রাখা হয়েছে টিকার অগ্রাধিকারের তালিকায়। চার ক্যাটেগরিতে হবে টিকাকরণ। ৩০ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনের দুটি করে ডোজ দিতে মোট ৬০ কোটি ডোজ দরকার পড়বে। এই বিপুল পরিমাণ ডোজ সেরাম ইনস্টিটিউট ও ভারত বায়োটেক তৈরি করবে। দুই সংস্থাই জানিয়েছে, তারা একজোট হয়ে টিকার উৎপাদন ও বিতরণ করবে।
সেরাম প্রধান আদর পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহে কয়েক লক্ষ করে টিকার ডোজ সরবরাহ করা হবে। চাহিদা মতো রাজ্যে রাজ্যে টিকার বন্টন হবে। মোট দশ কোটি কোভিশিল্ড টিকার ডোজ দেশবাসীর জন্যই সংরক্ষণ করা থাকবে। ভিন দেশে টিকার রফতানি হবে মার্চ-এপ্রিলের পরে। ইতিমধ্যেই ব্রাজিল, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া সহ একাধিক দেশ টিকা কেনার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে।
আদর অবশ্য আগে বলেছিলেন, টিকার প্রতি ডোজের দাম পড়তে পারে ২৫০ টাকা। সরকারকে এই দামেই টিকা দেওয়া হবে। তবে দরকার পড়লে দাম কমানো হতে পারে। আর বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ডোজ প্রতি ১০০০ টাকা দামে টিকা বিক্রি করা হবে। তবে টিকার উৎপাদন ও বাদবাকি পরিস্থিতি বিচার করে ডোজ প্রতি দাম ৬০০-৭০০ টাকাও রাখা হবে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই টিকা সংরক্ষণেও কোনও ঝামেলা নেই। খুব ঠান্ডার দরকার পড়বে না। কোল্ড-স্টোরেজের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই টিকা ভাল থাকবে। তাই ভ্যাকসিনে ট্রান্সপোর্টে কোনও সমস্যা হবে না।