
শেষ আপডেট: 7 February 2024 20:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের পিছোল সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রর জামিন আবেদনের মামলার শুনানি। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সুজয়কৃষ্ণ ওরফে 'কালীঘাটের কাকু'র জামিনের আবেদন করেছেন তাঁর আইনজীবী। বুধবার জামিনের বিরোধিতায় আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দেয় ইডি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টোয় ফের মামলার শুনানি।
নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। বুধবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে তাঁর জামিনের মামলার শুনানিতে সুজয়কৃষ্ণর আইনজীবী যিষ্ণু সাহা জানান, তাঁর মক্কেল এখন স্থিতিশীল হলেও মেডিকেল নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। এসএসকেএমের মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টেই এই বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইডি হেফাজতে রয়েছেন কালীঘাটের কাকু। তাঁর বাইপাস সার্জারি হয়েছে। বুকে পেসমেকার বসানো আছে। নেফ্রলজি সহ আরও নানাবিধ সমস্যা রয়েছে 'কাকু'র। ইডি তদন্ত, গ্রেফতারি, স্ত্রী বিয়োগ সব মিলিয়ে তার উপর মানসিক চাপ তো রয়েছেই। মানসিক অসুস্থতারও চিকিৎসার প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটেই জামিনের আর্জি জানিয়েছেন সুজয়কৃষ্ণ। তাঁর আইনজীবী এদিন সওয়াল করেন, মেডিকেল এমার্জেন্সির কারণে সুজয়কৃষ্ণকে ফের হেফাজতে না পাঠিয়ে জামিন দেওয়া হোক। সুজয়কৃষ্ণর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তাঁর থেকে তদন্তকারী এজেন্সি যাবতীয় তথ্য নিয়েছে। জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। তাই সুজয়কৃষ্ণকে হেফাজতে নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে, ইডির পক্ষের আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ''শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে জামিনের আবেদন আমরা মানছি না। লিখিত আকারে আদালতকে আমরা এই বিষয়ে জানিয়েছি।''
প্রসঙ্গ, সোমবার মামলাটিতে আইনজীবীদের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল হাইকোর্ট। এক সময় অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণের হয়ে সওয়াল করেছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটার। তারপর তিনি এখন কীভাবে একই অভিযুক্তের মামলায় রাজ্যের হয়ে সওয়াল করছেন, সেই প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
গত ৮ ডিসেম্বর থেকে আইসিইউ-তে ভর্তি সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। সম্প্রতি তাঁর মেডিকেল রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছে এসএসকেএম হাসপাতাল। তাঁকে রিপোর্টে 'আনফিট' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, তাঁরা তাঁদের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের দিয়ে সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট পরীক্ষা করে দেখবে।বৃহস্পতিবার ফের মামলার শুনানি।