
শেষ আপডেট: 28 October 2023 22:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাই সুগার। আদালতেই মাখা ঘুরে পড়ে যান রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। শনিবার সন্ধের পর হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল বুলেটিন বের করা হয়। জ্যোতিপ্রিয়বাবুর শরীরে কী কী রোগ ধরা পড়েছে, টেস্ট রিপোর্টে কী রয়েছে তা বিস্তারিত জানানো হয়েছে সেই বুলেটিনে।
হাসপাতাল থেকে দেওয়া মেডিক্যাল বুলেটিন অনুযায়ী, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাইপারগ্লাইসেমিয়া রয়েছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা যখন-তখন বাড়তে পারে। সাধারণত রক্তে শর্করার পরিমাণ ১১.১ মিলিলিটারের চেয়ে বেশি হলে ‘হাইপারগ্লাইসেমিয়া’ অবস্থা তৈরি হয়। আর তখনই বাড়ে স্ট্রোকের আশঙ্কা। হাইপারগ্লাইসেমিয়া বিপজ্জনক। অনেক সময় দেখা যায় প্রচণ্ড মানসিক চাপ ও উদ্বেগে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে। অতিরিক্ত স্ট্রেস বাড়িয়ে দিতে পারে দেহের কর্টিসোল ও অ্যাড্রিনালিন হরমোন ক্ষরণের মাত্রা। এই হরমোনগুলির ভারসাম্য নষ্ট হলেও রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
কিডনির অসুখ আগেই ছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। তাঁর রেনাল ইমপেয়ারমেন্ট বা কিডনির রোগও ধরা পড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ইন্টারনাল মেডিসিন, নিউরোলজি, কার্ডিওলজি এবং নেফ্রোলজির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জ্যোতিপ্রিয়কে দেখেছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে সিটি স্ক্যান, এমআরআই, রক্তের বিভিন্নরকম পরীক্ষা করানো হয়েছে। ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম পরীক্ষাও করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর। জানা গেছে, হাইপারটেনশনও নাকি রয়েছে তাঁর।
টানা ২১ ঘণ্টা জেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয়বাবু। আদালতে নিয়ে যাওয়ার পরে জ্ঞান হারান তিনি। বমিও হয় তাঁর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একেই হাই সুগার, তার উপর হাইপারগ্লাইসেমিয়া থাকলে যখন তখন শরীরের অবস্থা বিগড়ে যেতে পারে। বেশি মানসিক চাপ, টেনশন হলে মাথা ঘোরা, বমিভাবও আসতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, জ্যোতিপ্রিয়বাবুর হার্টের অবস্থা কেমন তা জানতে নানারকম টেস্ট করানো হবে। হেড আপ টিল্ট টেবিল টেস্ট করানো হতে পারে। আপাতত কার্ডিওলজি ও নিউরোলজি বিশেষজ্ঞদের নজরে থাকবেন মন্ত্রী। তাঁর হৃদস্পন্দনের অবস্থা জানতে হল্টার মনিটরিং করা হতে পারে। যেহেতু তিনি ডায়াবেটিক, তাই তাঁকে সেইমতো ডায়াবেটিক ডায়েটে দেওয়া হবে তাঁকে।
হাইপারগ্লাইসেমিয়া থাকলে রোগীর স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালিগুলিতে চর্বি জমে। দীর্ঘ দিন ধরে ডায়াবেটিসে ভোগার ফলে রক্তনালিতে এই চর্বি জমাট বাঁধতে শুরু করে। এই জমাট বাঁধা চর্বি রক্তনালিকে সঙ্কুচিত করে তোলে। মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় ধীরে ধীরে। জ্যোতিপ্রিয়বাবুর তেমন কোনও সম্ভাবনা আছে কিনা তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে।