
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 11 April 2025 13:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিল বকেয়া রাখার অজুহাতে কোনও রোগীর মৃতদেহ আটকে রাখা হলে কড়া পদক্ষেপ করবে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর (Health Department )।
সূত্রের খবর, রোগী ও তাদের পরিজনদের হয়রানি কমাতে এ ব্যাপারে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য। এই সংক্রান্ত বিষয়ে নয়া নির্দেশিকা প্রকাশ করার বিষয়েও আলোচনা শুরু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন।
স্বাস্থ্য কমিশনের সচিব আর্শাদ ওয়ারসি বলেন, "মাঝেমধ্যেই বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। একটা বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই, মৃতদেহ আটকে রাখার ক্ষেত্রে কোনও অজুহাত সহ্য করা হবে না।”
রাজ্যের একাংশ বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিল না মেটানোয় মৃতদেহ বা রোগীকে আটকে রাখার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। স্বাস্থ্য দফতরের তৎপরতার নেপথ্যে রয়েছে এরকমই একটি গুরুতর অভিযোগ।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, হাওড়ার সাঁকরাইলের একটি হাসপাতালে বিল মেটাতে না পারার কারণে একজন রোগীকে সুস্থ হয়ে যাওয়ার পরও প্রায় ৪৩ দিন আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতরে অভিযোগ জানিয়েছিলেন ওই রোগীর পরিজনেরা। এরপরই ঘটনার তদন্তে নেমে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে স্বাস্থ্য দফতর।
ওই প্রসঙ্গ টেনেই স্বাস্থ্য কমিশনেকর চেয়ারম্যান বলেন, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেটা যেমন বলা হচ্ছে তেমনই এ ব্যাপারে নয়া আইনের বিষয়েও আলোচনা করা হচ্ছে।
কিন্তু রাজ্যে এ ব্যাপারে নয়া আইন আনলে তাতে তো অনেক রোগীর পরিবার আইনের সুযোগ নিয়ে বিল না মেটাতে পারে? স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন, "তেমন সম্ভাবনা বা প্রবণতা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, সেজন্য নয়া বিধিতে এই বিষয়টির দিকেও নজর থাকবে। তবে একথাও ঠিক, কোনও রোগী অ্যাডমিট হওয়ার পর শুরুকেই যেভাবে গুচ্ছ গুচ্ছ টেস্ট করানো হয়, তার অনেক পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন থাকে। নয়া নিয়মে এই বিষয়টির দিকেও বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে।"
প্রসঙ্গত, রাজ্যের অধিকাংশ বাসিন্দাই চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ ভারতে ছুটে যান। সম্প্রতি প্রোগেসিভ নার্সিংহোম অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্মেলনেও এ প্রসঙ্গটি উঠেছিল। সেখানে বাংলার নার্সিংহোমগুলির 'আন্তরিকতা' নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এইচ এম প্রসন্ন।