
নেবেদিতা ভবন
শেষ আপডেট: 19 September 2024 17:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশনের কাজ নবম শ্রেণিতেই হয়। সেই রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে যদি ভুল থাকে, তা ঠিক করতে এক হাজার টাকা ফাইন দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এই ঘোষণা হওয়ার পর বিতর্কও তৈরি হয়েছিল গত বছর।
একজন পড়ুয়ার পক্ষে কীভাবে ভুল সংশোধনের জন্য হাজার টাকা দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্নও তোলেন শিক্ষক মহলের একাংশ। এখন দেখা যাচ্ছে, ভেরিফিকেশন করে ফাইনাল সাবমিট করে দেওয়ার পরও কিছু ছাত্র-ছাত্রীর ভুল এখনও রয়ে গেছে।
এই নিয়েই এবার পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে চিঠি দিল 'অ্যাডভান্স সোসাইটি অফ হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস'। সংগঠনের তরফে লেখা হয়েছে, 'এই মুহূর্তে অরিজিনাল রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে বিদ্যালয়ের অফলাইনে সঠিক থাকা সত্ত্বেও আপনাদের যে ভেরিফিকেশন লিস্ট আপনারা দিয়েছেন তাতে ভুল থাকার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কোনভাবে এড়িয়ে গেছে। তাই প্রতিটি বিদ্যালয়ের কমবেশি একটি দুটি করে ভুল রয়ে গেছে। আপনারা এবারে কোনরকম ক্যাম্প করেননি, প্রিন্ট করে দেননি, সব খরচ বিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ করেছে। তা সত্ত্বেও এক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর আবার আর্থিক বোঝা চাপাচ্ছেন। সর্বশিক্ষা মিশনের যে লক্ষ্য তার বিপরীত সিদ্ধান্ত আপনারা নিয়ে চলেছেন। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের ক্ষেত্রে আমরা এই ধরনের বৈপরীত্য লক্ষ্য করিনি'।
সেখানে আরও লেখা হয়, 'যেখানে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন দরদী প্রকল্প চালু করেছেন সেখানে আপনাদের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে বিপরীত। অধিকাংশ বিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মাত্র ২৪০ টাকা ফিস নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে হয়। একটি ভুল কারেকশন করার জন্য যদি ৫০ টাকার (আগের নির্ধারিত ফিস) পরিবর্তে ১০০০ টাকা জরিমানা দিতে হয় তাহলে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের। আমাদের আবেদন রইল, এ বছর সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে যে সকল ছাত্র-ছাত্রীর ভুল আছে তা বিনামুল্যে শুধুমাত্র জন্ম সার্টিফিকেট এবং রেজিস্ট্রেশন পূরণের অফলাইন কপি দেখে তা যাতে ছাত্রছাত্রীরা পেতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।'
আর ঠিক এর পরপরই অনেকে মনে করছেন, গ্রামীণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেখানে ছাত্র-ছাত্রী উপচে পড়ছে সেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষক- শিক্ষাকর্মী নেই। নূন্যতম পরিকাঠামোর না থাকা নিয়েও। অভিযোগ উঠছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ নবম শ্রেণীর রেজিস্ট্রেশনের সংশোধনের নামে কোটি কোটি টাকা আয় করতে ব্যস্ত।