পরীক্ষার জন্য নিজের শরীরেই করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ চিনের স্বাস্থ্য কর্তার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা বিশ্বেই চলছে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা। দেশে দেশে চলছে গবেষণা। ভারত-সহ অনেক দেশেই এখন স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে নতুন ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এমন পরীক্ষার জন্যই চিনে নিজের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে
শেষ আপডেট: 28 July 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা বিশ্বেই চলছে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা। দেশে দেশে চলছে গবেষণা। ভারত-সহ অনেক দেশেই এখন স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে নতুন ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এমন পরীক্ষার জন্যই চিনে নিজের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেছেন সে দেশের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) কর্তা গাও ফু। এই ভ্যাকসিন তাঁর শরীরে কাজ করবে বলেই আশা করছেন গাও ফু। তিনি এও জানিয়েছেন যে, পরীক্ষা সফল হলে আরও মানুষকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে।
আরও পড়ুন
রবিবার এক ওয়েবনারে নিজেই এই কথা জানিয়েছেন গাও ফু। চিনের ই-কমার্স সংস্থার 'আলিবাবা হেলথ' এবং 'সেল প্রেস' নামে বিজ্ঞান বিষয়ক মার্কিন প্রকাশক সংস্থা ওই ওয়েবনারের আয়োজন করে। সেখানেই গাও ফু বলেন, "আমি একটা অজানা কথা প্রকাশ করছি। আমি করোনার পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন নিয়েছি।" তিনি এও বলেন যে, "আমি আশা করি এটা কাজ করবে।"
সম্প্রতি সংবাদসংস্থা এপি জানিয়েছে, চিন সরকার সাধারণ মানুষের উপরে নতুন তৈরি ভ্যাকসিন পরীক্ষার জন্য প্রয়োগের অনুমতি দেওয়ার আগেই চিনের একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা নিজেদের কর্মীদের উপরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেছে। আর সেটা করা হয়েছে গত মার্চ মাসেই। সংস্থার কর্মী থেকে কর্তা অনেককেই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিন নেওয়া কর্মীসংখ্যা ৩০ এর মতো। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালানোকে অনেকই মনে করছেন ঠিক নয়। তবে গাও কবে ভ্যাকসিন নিয়েছেন তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি। সরকারের অনুমোদিত ট্রায়ালে তিনি অংশ নিয়েছেন কিনা সে ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলেও উত্তর দেননি গাও।
শুধু ভ্যাকসিন তৈরির গবেষণা চালানোই নয়, কোন দেশে আগে টিকা বের করতে পারবে তার প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। ইতিমধ্যেই রাশিয়া সবার আগে ভ্যাকসিন তৈরির জোর তৎপরতা দেখিয়েছে। আমেরিকা, ব্রিটেনও রয়েছে প্রতিযোগিতায়। আর এই সব প্রতিদ্বন্দীদের হারিয়ে করোনাভাইরাসের প্রতিশেধক তৈরির চেষ্টাটা চিনের কাছে শুধু বৈজ্ঞানিক নয়, রাজনৈতিক লড়াইও।
গোটা পৃথিবীতে প্রায় দু'ডজন ভ্যাকসিন পরীক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চিনেই। এখানে আটটি টিকার পরীক্ষামূলক ট্রায়াল চলছে। গাও ওই ওয়েবনারে বলেছেন, নতুন তৈরি হওয়া ভ্যাকসিনের উপরে সাধারণের ভরসা তৈরি করার জন্য বিজ্ঞানীদেরই এগিয়ে আসতে হবে। সাহসের সঙ্গে নিজেদের শরীরেই কার্যকরিতা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।