ধর্মীয় জীবন যাপন করার ইচ্ছা ছিল, কি করে জঙ্গি হয়ে গেল জানি না,' উত্তর খুঁজে চলেছেন ফিদায়েঁ জঙ্গি আদিলের বাবা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোরান পাঠ করত নিয়মিত। মসজিদে নমাজও পড়াত। ধর্মীয় জীবন যাপন করার ইচ্ছা ছিল ছেলের, কিন্তু কী করে যে জঙ্গি হয়ে গেল সেটা এখনও ভেবে পাচ্ছেন না জইশ-ই-মহম্মদের ফিদায়েঁ জঙ্গি আদিল আহমেদ দারের বাবা গোলাম হাসান দার।
২০১৬ সালের ১৯ মা
শেষ আপডেট: 14 February 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোরান পাঠ করত নিয়মিত। মসজিদে নমাজও পড়াত। ধর্মীয় জীবন যাপন করার ইচ্ছা ছিল ছেলের, কিন্তু কী করে যে জঙ্গি হয়ে গেল সেটা এখনও ভেবে পাচ্ছেন না জইশ-ই-মহম্মদের ফিদায়েঁ জঙ্গি আদিল আহমেদ দারের বাবা গোলাম হাসান দার।
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ তৌসিফ ও ওয়াসিমের সঙ্গে বাড়ি ছেড়েছিল পুলওয়ামার হামলাকারী ২০ বছরে আদিল ওরফে ওয়াকাস। গোয়েন্দারা মনে করছেন, তখন থেকেই জইশ-ই-মহম্মদে নাম লিখিয়েছিল সে। হামলার আগে তিন মাস ধরে গাড়ি নিয়ে কনভয়ে ঢুকে হামলা চালানোর অনুশীলন করেছিল আদিল। জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কের উপর যে জায়গায় সেনা কনভয়ে বিস্ফোরক ঠাসা স্করপিও নিয়ে হামলা চালায় আদিল সেখান থেকে তার নিজের গ্রাম গান্ধীবাগের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার।
নিজের ছোটখাটো ব্যবসা রয়েছে গোলাম হাসানের। বলেছেন, "তিন ভাইয়ের মধ্যে আদিলই ছিল সবচেয়ে বেশি ধার্মিক। কোরানের আটটা অধ্যায় মুখস্থ বলতে পারতো। ধর্মীয় জীবন যাপন করার কথাই বলত। কী করে যে এমন হল বুঝতে পারছি না।"
দ্বাদশ শ্রেণি অবধি পড়াশোনা করে স্কুল ছাড়ে আদিল। রাজমিস্ত্রীর কাজ শুরু করে। পাশাপাশি মসজিদে নিয়মিত নমাজ পড়াত। তবে স্থানীয়দের কথায়, জঙ্গি দলের প্রতি তার আকর্ষণ আগে থেকেই ছিল। আদিলের আগে তার পরিবারের আরও এক সদস্য নাম লিখিয়েছিল জঙ্গি দলে। ২০১৬ সালে লস্কর-ই-তৈবার সক্রিয় সদস্য হিসেবে যোগ দেয় আদিলের তুতো ভাই মনজুর রশিদ দার। তবে জঙ্গি দলে যোগ দেওয়ার ১১ দিন পরেই সেনার গুলিতে প্রাণ হারায় সে। ওই বছরই হরকত উল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির সেনা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর গোটা উপত্যকা জুড়ে বিক্ষোভ-আন্দোলন শুরু হয়। তার রেশ ছড়ায় পুলওয়ামাতেও। সেই সময় বিক্ষোভে যোগ দিতে দেখা গিয়েছিল আদিলকে। তদন্তকারীদের দাবি, তখন থেকেই জঙ্গি দলের সঙ্গে যোগ রেখে চলছিল সে। গত বছর মার্চ মাসে হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়। দিন কয়েক পরে একে-৪৭ নিয়ে ওয়াকাস কমান্ডার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করে।
গোয়েন্দাদের কথায়, গত বছর জইশের ফিদায়েঁ জঙ্গি ফারদিন আহমেদ খান্ডের মৃত্যুর পর সেই জায়গা নেয় আদিল। জোরকদমে শুরু হয় তার প্রশিক্ষণ। বছর ঘুরতেই আদিল হয়ে ওঠে দক্ষ ফিদায়েঁ জঙ্গি। সেনা কনভয়ে ঢুকে কী ভাবে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে তার প্রশিক্ষণ তাকে দেওয়া হয়েছিল তিন মাস ধরে। হামলার কয়েক মিনিট আগে একটি ভিডিও বার্তায় উরি, পাঠানকোট বিস্ফোরণের মতো জইশের পূর্ব কীর্তির কথা ফলাও করে বলেছিল সে। পাশাপাশি নিজেকে ফিদায়েঁ হিসেবে পরিচিতিও দিয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, গান্ধীবাগ ও আশপাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে আদিলের মতোই যুবক বা সদ্য কিশোররা যোগ দিচ্ছে জইশ বা হরকতের মত জঙ্গি সংগঠনে। তাদের মধ্যে আদিলের বেশ কিছু বন্ধুও রয়েছে। এদের মধ্যে একজন কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজির ছাত্র।
আরও পড়ুন:
https://thewall.in/news-national-we-have-incontrovertible-evidence-against-pakistan-in-pulwama-incident-claims-arun-jaitely/