
শেষ আপডেট: 23 January 2019 18:30
তাঁকে প্রশ্নে করা হয়েছিল, তবে যে কদিন আগে আপনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা বলেছিলেন! জবাবে কুমারস্বামী বলেন, তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেননি যে জনতা দল সেকুলার মমতাকে প্রধানমন্ত্রী পদ প্রার্থী হিসাবে চাইছেন বা বিরোধী জোটের নেত্রী হিসাবে চাইছেন। তাঁর কথায়, শুধু বলেছিলাম, আঞ্চলিক নেতা নেত্রীদের মধ্যে মমতা সব থেকে যোগ্য।
কুমারস্বামীর এই ডিগবাজি তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলল সন্দেহ নেই।
পর্যবেক্ষকদের একাংশ গোড়া থেকেই বলছিলেন, প্রধানমন্ত্রী পদ প্রার্থী হয়ে ওঠার রাজনৈতিক আকাঙ্খা থেকেই ব্রিগেড সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন মমতা। ব্রিগেডের পর দিন কমবেশি সব ‘বাংলা সংবাদমাধ্যমে’ লেখা হয়েছিল, মমতাই বিরোধী জোটের নেত্রী হিসাবে উত্তীর্ণ হলেন। কিন্তু তারপর থেকে স্ট্যালিন, তেজস্বী, কুমারস্বামী, শিবু সোরেনরা উল্টো সুর গাইছেন। রাহুল গান্ধীকে বিরোধী জোটের নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী পদ প্রার্থী বলে মন্তব্য করতে শুরু করেছেন। এই অবস্থায় ব্রিগেডের উদ্দেশ্যটাই ভেস্তে গেল কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বিজেপি-ও কটাক্ষ করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছে তৃণমূলকে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাস্তবতা অস্বীকারের উপায় নেই। স্ট্যালিন, শরদ পওয়ার, শরদ যাদব, কুমারস্বামী, হেমন্ত সোরেন, ওমর আবদুল্লাহ, তেজস্বী যাদব এমনকি শত্রুঘ্ন সিনহার মতো নেতারও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কংগ্রেসের উপরে। নিজ নিজ রাজ্যে তাঁরা কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করতে চাইছেন। রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী পদ প্রার্থী হিসাবে তথা মোদীর বিকল্প হিসাবে তুলে ধরেই তাঁদের ভোটে যেতে হবে। তাই তাঁরা রাহুল রাহুল করছেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, মমতার সম্ভাবনা একেবারে চলে গেল। বরং রাজনীতি সম্ভাবনারই খেলা। এতো কিছুর পরেও কংগ্রেস দেড়শ-র বেশি আসন না পেলে এবং বিরোধী জোটের সামনে সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হলে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য দাবি না জানানোর সম্ভাবনাই বেশি। সেই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই হয়ে উঠতে পারেন অন্যতম বিকল্প মুখ।