
শহরে চলছে উচ্ছেদ অভিযান - নিজস্ব চিত্র
শেষ আপডেট: 27 June 2024 13:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হকার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধমকের পর গত দুদিন ধরে কলকাতার একাধিক জায়গায় বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ চলেছে। বৃহস্পতিবারও সেই অভিযান হল। কলকাতার একাধিক এলাকা ছাড়াও রাজপুর সোনারপুর, নরেন্দ্রপুর এলাকায় উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চলে। যদিও পুরসভা এবং পুলিশের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ করা হবে ঘোষণা করা মাত্রই হকাররা নিজেদের দোকান নিজেরাই সরাতে শুরু করে দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার, বুধবারের পর বৃহস্পতিবার আলিপুর চিড়িয়াখানা অঞ্চল, যদুবাবুর বাজার এলাকায় অভিযান চালায় ভবানীপুর থানার পুলিশ। ঘটনাচক্র এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের অন্তর্গত। গত দুদিন ধরে অভিযানের পরও এদিন দেখা যায় এখনও বেশ কয়েকজন হকার রয়েছেন যারা নির্দেশ না মেনে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন। তাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। স্পষ্ট বলা হয়েছে, একদিনের মধ্যে ফুটপাত খালি না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএসকেএমের সামনে হরিশ মুখার্জি রোডের উপরও ফুটপাথ দখলমুক্ত করার কাজ চলেছে বৃহস্পতিবার। এর আগে বেহালা, শিয়ালদহ, রাজাবাজারের মতো এলাকাতেও চলেছে উচ্ছেদ অভিযান। বুধবার বেশ কয়েক জায়গায় বুলডোজার চালানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবারও কলকাতার বেশকিছু জায়গায় বুলডোজার নিয়ে অভিযান চালানো হয়। এদিন যখন এই অভিযান চলছে তখন নবান্নে ফের হকার ইস্যুতে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যদিও বুলডোজার ব্যবহারের বিষয়টি ভাল চোখে দেখেননি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ''কারও চাকরি খেয়ে নাওয়ার অধিকার আমার নেই। হকারদের জীবিকা খেয়ে নাওয়ার অধিকারও আমার নেই। তবে ওদেরও নিয়ম মানতে হবে।'' একই সঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রী এদিন এও বলেন, আগে টাকা নিয়ে রাস্তায় হকার বসাবে। তার পর বুলডোজার দিয়ে তুলে দেবে। এ আমার নীতি নয়।
হকার ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশ, কলকাতা সহ সমস্ত পুরসভা এলাকায় ফুটপাতে হকার বসার সুনির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। তিনি জানিয়েছেন, হকারদের নির্দিষ্ট জোন করে দিতে হবে। তাঁরা পরিচয়পত্র পাবেন। সরকার নির্দিষ্ট জায়গাতেই বসবে হকাররা। তবে ফুটপাতের পুরোটা বা রাস্তা দখল করে কোনও ভাবেই দোকান বসানো যাবে না।