দ্য ওয়াল ব্যুরো : তিনি শুধু আমাকে নয়, সারা দেশের মহিলাদের অপমান করেছেন। আমার নির্বাচন কেন্দ্রের মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন। তাঁরা আমার ওপরে আস্থা রাখেন। তাঁর মতো মানুষকে শায়েস্তা করার ক্ষমতা আমার আছে। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ আজম খান সম্পর্কে এমনি বলেছেন বিজেপির সাংসদ রমা দেবী।
গত বৃহস্পতিবার লোকসভায় যখন তিন তালাক বিল নিয়ে বিতর্ক হচ্ছিল, রমা দেবী সভা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। আজম খান বক্তব্য পেশ করতে উঠলে রমা দেবী বলেন, চেয়ারের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। যিনি সভাপতিত্ব করছেন, তাঁর মাধ্যমে সভার কাছে বক্তব্য পেশ করতে হয়। তখনই আজম খান এমন কিছু মন্তব্য করেন, যে শাসক দলের মতে 'নারীবিদ্বেষী'। তাদের বক্তব্য, আজম খানকে নিঃশর্তে ক্ষমা চাইতে হবে।
রমা দেবী অবশ্য বলেছেন, আজম খান ক্ষমা চাইলেও তিনি আর ক্ষমা করবেন না। তাঁর কথায়, তিনি আমাকে দু'বার অপমান করেছেন। প্রথমত তিনি ওই ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। দ্বিতীয়ত সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চাননি।
তিনি সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আজম খান যখন বক্তব্য পেশ করছিলেন, আমি স্পিকারের আসনে বসেছিলাম। আজম খান সরাসরি এমপিদের দিকে তাকিয়ে কথা বলছিলেন। আমি তাঁকে বললাম, যিনি সভাপতিত্ব করছেন, তাঁর উদ্দেশে বক্তব্য পেশ করুন। এরপরেই তিনি এমন কিছু বলেন, যা আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই না।
রমা দেবী বলেন, আমি সঙ্গে সঙ্গে মুখের মতো জবাব দিতে পারতাম। কিন্তু স্পিকারের চেয়ারের সম্মানের কথা ভেবে কিছু বলিনি।
আজম খানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, সমাজবাদী পার্টির এমপি যদি ওইদিনই ক্ষমা চাইতেন, আমি তাহলে তাঁকে ক্ষমা করতে পারতাম। কিন্তু বৃহস্পতিবার ওই কথা বলার পরে তিনি অন্যায় স্বীকার করেননি। যেন কিছুই হয়নি এমন ভাব করে সভা থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। আমি স্পিকার ওম বিড়লাকে বলব, আজম খান কেবল রমা দেবীর অপমান করেননি, তিনি সারা দেশের মহিলাদের অস্বস্তিতে ফেলেছেন।
পরে রমা দেবী বলেন, আজম খানের ওই মন্তব্য নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক হয়েছে। কী সিদ্ধান্ত হল, জানা যাবে সোমবার। আমি ওই বৈঠকে ছিলাম না।
আজম খান উত্তরপ্রদেশের রামপুরের সাংসদ। তিনি বলেছেন, রমা দেবী আমার বোনের মতো। আজম খানকে সমর্থন করার জন্য সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতা অখিলেশ সিং যাদবেরও সমালোচনা করেন রমা দেবী।