দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুলিশ কোনও অন্যায় করেনি। তরুণী পশু চিকিৎসক খুন ও ধর্ষণে অভিযুক্ত চারজনকে এনকাউন্টারে মেরে ফেলা নিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগন মোহন রেড্ডি। সোমবার তিনি তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওকে এক বার্তা পাঠান। তাতে লিখেছেন, “কে সি আর ও তেলঙ্গানার পুলিশ অফিসারদের ধন্যবাদ জানাই।”
পরে জগন বলেছেন, “তেলঙ্গানায় যেভাবে ওই তরুণীকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছে, তা সমাজের লজ্জা। চার অপরাধী তরুণীর টু হুইলারের চাকা পাংচার করে দিয়েছিল। পুলিশ এবং নেতারা ওই ঘটনায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারতেন? আমাদের উচিত নিজেদের এই প্রশ্ন করা।”
জগন বলেন, তাঁরও দু’টি কন্যা আছে। এক বোন আছে। স্ত্রী আছে। তেলঙ্গানায় যা ঘটেছে, আমি তাতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বাবা হিসাবে আমি ওই ঘটনায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব? অপরাধীদের কী শাস্তি হলে মৃতার বাবা শান্তি পাবেন?
যাঁরা মানবাধিকারের কথা তুলছেন, তাঁদের তীব্র সমালোচনা করেন জগন। তাঁর কথায়, “টিভি চ্যানেলগুলো বলছে, একটা কিছু ভুল হয়েছে।” পরে তিনি বলেন, “সিনেমায় যদি কোনও হিরো কাউকে এনকাউন্টারে মারে, আমরা হাততালি দিই। কিন্তু বাস্তবে কোনও সাহসী লোক যদি বাস্তবে এমন করে, দিল্লি থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নামে কেউ একটা এসে হাজির হয়। তারা বলে ভুল হয়েছে। এমন করা উচিত হয়নি।”
গত শুক্রবার ভোর হতেই জানা যায়, চট্টনপল্লিতে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পুনর্নিমাণ করার জন্য অভিযুক্তদের নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের দু’জন পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাতে শুরু করলে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়, তাতেই চার অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। পৈশাচিক অত্যাচারকারী চার অভিযুক্তের মৃত্যুর পরেই এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট সজ্জনারকে অভিনন্দনের ঢল নামে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, পুলিশের বয়ান নিয়েই। চার জনকেই কেন গুলি করা হল, কেন দু’রকম সময়ের কথা বলা হচ্ছে – এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্ন তোলেন মানবাধিকার কর্মীরাও।
বিচারের নামে প্রতিশোধ নেওয়া ও ‘ধর তক্তা’ বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দেশের প্রধান বিচারপতি বোবদেও। একাধিক মানবাধিকার সংগঠন এব্যাপারে হস্তক্ষেপের জন্য আবেদন করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে।
এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হস্তক্ষেপ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও। তারা এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং সাত সদস্যের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’ নিয়োগ করে।